অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে কৃষিজাতপণ্য এখন যোগ হচ্ছে রপ্তানিখাতে

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে মানুষের খাদ্যভাস। এই পরিবর্তন ছুঁয়ে গেছে শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত। যে পরিবর্তনে ভাত ও রুটির পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে বিস্কুট-পাউরুটির মতো খাদ্যপণ্য। এছাড়াও প্রতিনিয়ত রপ্তানি খাতে যোগ হচ্ছে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার খাদ্যপণ্য।

চাহিদা মেটাতে দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, জ্যাম-জেলি, সরিষার তেলসহ প্রায় ৮শ’ ধরনের পণ্য। অথচ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি বলছে, শুধু প্রতিবেশি দেশগুলোতে ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারে বাংলাদেশ। রপ্তানি অবকাঠামো তৈরিতে পিছিয়ে থাকায় সম্ভাবনার সবটুকু কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

শুধু বিস্কুট, পাউরুটি নয়। চাহিদা বাড়ছে জ্যাম, জেলিরও। মসলা, জুস,সরিষার তেল, আচার ও সুগন্ধি চালের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্যশিল্পে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন পণ্য। সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজারও। আর ভোক্তা চাহিদা মেটাতে দেশের শতাধিক প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠানে সরাসরি পণ্য সরবরাহে কাজ করছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।

প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে টাকার অঙ্কে প্রায় ৫০ হাজার কোটির টাকার মার্কেট আছে। উত্তর বঙ্গে যদি স্বল্প মূল্যে গ্যাস-জ্বালানি সরবরাহ করা যেত, তাহলে এই শিল্প আরো বেশি প্রসার লাভ করতো।

অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি ২০০০ সালের দিকে শুরু হয় প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি কার্যক্রম। একে একে রপ্তানি বাজারের তালিকায় যোগ হয়েছে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৪০টি দেশ।

বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুনশী বলেন, ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা নিতে চাই, তার জন্য আমাকে ১০-১১ শতাংশ সুদ দিতে হয়।

চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০ হাজার কোটি টাকা। অথচ এডিবি বলছে, সম্ভাবনা রয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকার। সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দেয়া উচিত বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ড.মিজানুল হক কাজল বলেন, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি সেভাবে যদি খাত করে মেলার আয়োজন করে দেওয়া হয়, তাহলে বাইরের দেশের বিনিয়োগকারীরা আমাদের দেশে আসবে।

দ্রুত প্রসার ঘটছে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পণ্যের বাজারে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মত পুরানো বাজারের পাশাপাশি আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশ গুলোতে প্রতি বছরই বাড়ছে রপ্তানির পরিমাণ। তাই আন্তর্জাতিক বাজার আরও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডিংয়ের উপর জোর দিচ্ছে উদ্যোক্তারা। এক্ষেত্রে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও কার্য কর ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: সময় টিভি