অভিভাবক শূন্য চট্টগ্রাম নগরী

ফারমিনা তাসলিম : চট্টগ্রাম মহানগরে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আর নেই। শুক্রবার ভোর ৪ টার দিকে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃতকালে তার বয়স হয়েছে ৭৪ বছর।

মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে ৩ বার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমা-ারও। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন।

তার বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল চৌধুরী নওফেল বাবার মৃত্যুর খবর সাংবাদিকদের জানান।

চট্টগ্রামের একজন বর্ষীয়ান নেতা ছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে চট্টগ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার এ চলে যাওয়ার ক্ষতি কি আদৌ পূরণ হবে?

মহিবুল চৌধুরী নওফেল বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘসময় লাইফ সাপোর্টে থাকার পরেও তার হৃদযন্ত্রের প্রক্রিয়া ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভক্তরা বলেন, চট্টগ্রাম শহর আজ এতিম হয়ে গেল। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো কথা বলার কেউ নেই। চট্টগ্রামবাসীর অভিযোগ, অভিমান শোনারও এখন আর কেউ নেই।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধাক্ষ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, আমরা এক মহান নেতাকে হারিয়েছি। মহিউদ্দিন চৌধুরী বৃহত্তর চট্টগ্রামের একজন অভিভাবক ছিলেন। সে অভিভাবককে হারিয়ে আজ সবাই এতিম হয়েছি। যে ক্ষতি হয়েছে সেটা পূরণ হওয়ার নয়। উনি চট্টগ্রামের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান ছিলেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর একজন সহযোদ্ধা বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামের উন্নয়ন হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ডে স্কুল এবং কলেজ, মসজিদ, রাস্তাঘাট ওনার আমলে খুব উন্নতি হয়েছে। আমরা চট্টগ্রামের একজন নগর পিতা হারালাম। এ হারানোটা পূরণ হওয়া কখনো সম্ভব না।

চট্টবাসীরা বলেন, চট্টগ্রামপ্রেমী একজন যোগ্য অভিভাবক হারিয়েছি। পূরণ হবে কিনা আমরা তা জানি না। আশা করি মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরবর্তী প্রজন্ম থেকে হোক আমাদের এ অপূরণীয় ক্ষতি যেন পুষিয়ে ওঠে।

মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম নগরীতে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তা অপূরণীয়। তিনি চট্টগ্রামের উন্নতির জন্য আমরণ যুদ্ধ করে গেলেন। তার মতো আরো একজন নগরবাসী আসুক সে কামনাই আছে চট্টগ্রামবাসীরা।

সূত্র – নিউজ টোয়েন্টি ফোর