কুড়িগ্রামে টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা

জান্নাতুল ফেরদৌসী: টাকা দিয়ে হওয়া যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা। এ জন্য দিতে হয় ২ থেকে ৫ লাখ টাকা। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে খোদ বাছাই কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ উপজেলায় তালিকায় স্থান পাওয়া ২২৪ জনের মধ্যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মাত্র ১২ থেকে ১৩ জন। এ সুযোগে অনেক স্বাধীনতাবিরোধীও বনে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা। সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট টিভি

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। সবশেষ ২০১৪ সালে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ আবেদন জমা পড়ে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উপজেলা পর্যায়ে শুরু হয় যাচাই বাছাই।

তবে টাকার বিনিময়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে অনেক এলাকায়। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বাছাই কমিটির সভাপতি ওসমান গণির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাই।

কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী মুক্তিযোদ্ধা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বাইরের লোকদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে দেয়া হয়েছে টাকার বিনিময়ে।

এ উপজেলার বাছাই তালিকায় ২২৪ জনের নাম থাকলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মাত্র ১২-১৩ জন।

কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত হোসেন বলেন, নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার যে যাচাই বাছাই হয়েছে সেটা গ্রহণ করা যায় না, মেনে নেয়া যায় না। তাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধার সাথে সম্পর্ক ছিল না। যারা মুক্তিযোদ্ধার বিরোধী ছিল তারা এখন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়।

টাকা নিয়েও অনেকের নাম তালিকায় রাখা হয়নি, রয়েছে এমন অভিযোগও। মৃত বাবা জসমতকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে দুই লাখ টাকা দেন জোসনা বেগম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তালিকায় তার বাবার নাম ওঠেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন ওসমান গণি।

কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী যাচাই-বাছাই সভাপতি ওসমান গণি বলেন, যারা বলছে টাকা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন কে টাকা নিয়েছ?

স্বাধীনতা বিরোধীরাও টাকার বিনিময়ে বনে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা, নাগেশ্বরী উপজেলায় রয়েছে এমন অভিযোগও।