মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানি জেলে কিন্তু তার জিহাদি বই এখনো বাজারে

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : জঙ্গী সংগঠন ‘আনসার আল ইসলামে’র নেতা মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানি বাংলাদেশের সম্ভবত প্রথম জঙ্গী নেতা যিনি তথ্য প্রযুক্তিকে খুব ভালভাবে ব্যবহার করেছেন এবং তিনি যখন কারাগারের বাইরে ছিলেন তখন প্রতি শুক্রবার তার মসজিদে জুম্মার সময় খুৎবার মতো বয়ান দিতেন এবং সেই বয়ান ইন্টারনেটের মাধ্যমে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়তো। বিষয়টি জানান আশেক হক যিনি লন্ডনের কিংস কলেজে উচ্চ শিক্ষার সময় জসিম উদ্দিন রাহমানির উপর গবেষণা করেন। বিবিসি বাংলা

বাংলদেশের পুলিশ বলছে নিউইয়র্কে বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেফতার আকাইদ উল্লাহ নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন ‘আনসার আল ইসলামে’র নেতা মুফতি জসিম উদ্দির রাহমানির বই পড়তেন এবং তার স্ত্রীকেও পড়ার জন্য বলতেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেয়ে তিনি ধর্মীয় উগ্রবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন বলে পুলিশ ধারণা করছে।

মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানি বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছে। তবে তার এই ধর্মীয় বয়ানের প্রতি মানুষ কেন সহজে আকৃষ্ট হয়?

এই প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আশেক হক বলেন, জসিম উদ্দিন রাহমানি আসলে গ্লোবাল জিহাদি। যে বড় বড় লিডাররা ছিলেন যারা জিহাদ সম্পর্কে মত, দর্শন লিখেছিলেন, জসিম উদ্দিন সেগুলো বাংলায় বলেন। কাজোই তিনি তার বক্তব্যগুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতেন। তিনি যেভাবে অনেক বছর ধরে তৈরি করেন এইজন্য সেগুলো অনেক প্রতিফলিত, পরিমার্জিত হয়। সে ক্ষেত্রে তার লেখাগুলো অনেক আকর্ষণীয়। আর এই কারণেই তিনি ওই ধরণের জিহাদ বা সন্ত্রাসবাদে মানুষকে বেশি আকৃষ্ট করতে পারেন। তাছাড়া তিনি অনেক ভালোভাবে ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে কথা বলে সবাইকে আকৃষ্ট করতেন। তিনি এমনভাবে এটাকে সামনে তুলে ধরেন যেন এটা একটা ধর্মীয় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়।

আপনি কী একাট উদাহারণ দিয়ে বলতে পারবেন তিনি কী ধরণের বক্তব্য দেন?

জবাবে তিনি বলেন, তার কমপক্ষে সাড়ে ৩’শ বয়ান রয়েছে। আর সে গুলোতে প্রায় সাড়ে ৪’শ ঘন্টার উপরে আলোচনা রয়েছে নানা রকম বিষয়ে। জিহাদ নিয়ে তিনি অনেক কথা বলেছেন, তাছাড়া আরও অনেক ধর্মীয় দর্শন নিয়ে কথা বলেছেন যেটা জিহাদের সাথে মিশে মানুষের জীবন ধারণের ব্যাপারটাকেই অনুপ্রাণিত করে এবং দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয় সম্পূর্ণভাবে। কিন্তু শুধু একটি ক্ষেত্রে নয় এটি একজন মানুষের সামগ্রিক বিষয়ে তাদের মতামত রয়েছে কারণ তাদের বক্তব্য হচ্ছে মানুষের সম্পূর্ণ জীবনকে ঘিরে এবং জিহাদ কিংবা সাধারণ বক্তব্যের ক্ষেত্রে তারা সাধারণত যেটা করে থাকে সেটা হলো কুরআন শরীফ বা হাদিস থেকে উদাহারণ নিয়ে বা সূরা থেকে বিভিন্ন আয়ত উল্লেখ করে সেটাকে ব্যবহার করে এবং নবী-রাসূলদের জীবনের উদাহারণ টেনে এনে এখনকার পৃথিবীর যে ঘটনা তার সাথে মিলিয়ে তারা একটা সমাধান দেন। আর সেটা অনেক বিপদজনক হয়ে ওঠে মানুষের জন্য। যখন ধর্মীয় ওই ধরণের কোনো সমাধান মানুষের সামনে উপস্থাপন করানো হয় যে, দেখ ধর্ম অনুযায়ী যেটা আমরা সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি, ধর্মীয় অনুশাসন, নিয়মনীতি, তত্ত্ব অনুযায়ী আমরা সেইগুলোই তোমাকে বলছি। তখন এটা সাধারণ মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই এটা তারা অস্বীকার করতে পারে না এবং এটাই ছিল ওই সন্ত্রাসী নেতাদের কৌশল, যে তারা ওইভাবে নিজেকে সবার সামনে উপস্থাপন করে।

জসিম উদ্দিন রাহমানিতো দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছে তাহলে তার এই ওয়াজ, বক্তব্য বা বইপত্র যারা পড়ে তারা কিভাবে এইগুলো হাতে পায় এবং এগুলো কিভাবে এখনো বাজারে পাওয়া যায়?

জবাবে তিনি বলেন, জসিম উদ্দিন রাহমানি তার ওয়াজ, বয়ান ইন্টারনেটে ছেড়ে দিত। আর সেগুলোই এখন নানা রকম ওয়েবসাইটে নানাভাবে রয়েছে। ওটা খুঁজে বের করা কঠিন কিছু নয় এবং এতো জায়গায় ছড়িয়ে আছে যেগুলো এখন বন্ধ করাও সম্ভব না। এছাড়াও তার বড় বা ছোট অনেক ধরণের বই রয়েছে সেগুলো ডিজিটাল আকারে নানা জায়গায় রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে তার কিছু কিছু ওয়াজ, বক্তব্য বা বই সিডি আকারে রয়েছে।

জসীম উদ্দীন রাহমানির বই, ওয়াজগুলো কারা বেশি পড়ে বয়স্ক মানুষ, তরুণ, গ্রামের মানুষ না কি শহরের মানুষ?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই যে নতুন জিহাদি ধারাটা এটা কিছুটা তরুণ ও মধ্যবয়সীদের মধ্যে বেশি। এছাড়া শিক্ষিত ও উচ্চ শিক্ষিত এবং আইটিতে যারা রয়েছে তারাই বেশি জড়িত। আর তারাই জিহাদে অংশগ্রহণ করছে এবং দেশের বাইরে যেয়ে যখন ফিরে আসছে তখন আবার তারা ধরাও পড়ছে। এটি এখন বেশি শহর কেন্দ্রিক ও তরুণ কেন্দ্রিক হয়েছে।