উচ্চমাত্রায় অপুষ্টিতে ভুগছে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা উচ্চমাত্রায় অপুষ্টিতে ভুগছে। এর মধ্যে শতকরা ৩৬ দশমিক এক ভাগ শিশু বয়সের তুলনায় লম্বায় কম (খর্বকায়)। শতকরা ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু কৃশ এবং বয়সের চেয়ে কম ওজনের শিশুর সংখ্যা শতকরা ৩১ দশমিক ৪ ভাগ। পুষ্টির অভাবই এ পরিস্থিতির মূল কারণ।

সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারের ‘দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি পরিকল্পনায়’ এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি না হলে, পুষ্টিহীনতার হার এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২০-২৫ সালের মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ কমিয়ে আনা যাবে না।

পুষ্টি পরিকল্পনায় আরো বলা হয়েছে, পুষ্টি সেবার ব্যাপ্তি, মান ও পারিবারিক পুষ্টি আচরণে উন্নতি প্রয়োজন। প্রাপ্ত বয়স্ক নারী ও কিশোরীদের মধ্যেও অপুষ্টি বিদ্যমান এবং অঞ্চল ভেদে এর ব্যাপকতা রয়েছে। গ্রাম ও শহরের পুষ্টি পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের বস্তিগুলো অনেক বেশি সুবিধাবঞ্চিত। তবে শহরের বস্তির অবস্থা খুবই খারাপ। বস্তির অর্ধেক শিশু খর্বকায়। বস্তিতে কিশোরী গর্ভধারণ তুলনামূলক বেশি। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য আগারগাঁও বিএনপি বস্তিতে গেলে কথা হয় রাশেদা খাতুনের সঙ্গে, তিনি চলতি বছর নভেম্বর মাসের ২০ তারিখে ২ কেজি ওজনের একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। রাশেদা খাতুনকে দেখে সহজে বোঝা যায় তিনি নিজেও অপুষ্টিতে ভুগছেন। রাশেদা খাতুনের ৫ বছর বয়সি বড় মেয়েও বয়সের তুলনায় ছোটখাটো। কিন্তু রাশেদার মা ও অন্যান্য প্রতিবেশীরা বলেন, ‘মায়ে খাটো, বাইচ্চা লাম্বা হইবো কইতথেইক্যা’। রাশেদা বলেন, গর্ভাবস্থায় তাকে ডাক্তার আপা আয়রন বড়ি খেতে দিয়েছিল, কিন্তু প্রতিবেশীরা বলেছে, এই বড়ি খেলে সন্তান পেটে বড় হবে, তখন সন্তান স্বাভাবিক নিয়মে প্রসব হবে না; সিজার করতে হবে। সেই ভয়েই সে ওইসব বড়ি আর খায়নি। একই পরিস্থিতি মরিয়ম, হাজেরা, মুক্তা ও সুখবানুর।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রুহুল আমিন দেশের পুষ্টি পরিস্থিতি বিষয়ে বলেন, গত তিন দশকে পুষ্টি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। খর্বতা হ্রাস পেয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট দ্রুতগতিতে নয়।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, অপুষ্টির কারণে প্রতিবছর দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়। উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি একটি অন্যতম বাধা। অপুষ্টির কারণে শিশুরা অসুখ-বিসুখে বেশি ভোগে। এতে তাদের জন্য পরিবার ও সরকারের খরচ বেড়ে যায়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, পুষ্টি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নারী ও শিশুদের পুষ্টিপরিস্থিতির উন্নতি হবে। শিশুর পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে মায়ের পেট থেকে শিশুর যত্ন দিতে হবে। আর সে জন্যে মাকে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। একটি খর্বকায় শিশু জন্ম না দেয়ার জন্য, মায়ের পেট থেকে শিশুর ৫ বছর পর্যন্ত পুষ্টিকর খাবার দিয়ে তার যত্ন নিতে হবে।

সূত্র : ইত্তেফাক