আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নেওয়া যাবে মিয়ানমারকে

ডেস্ক রিপোর্ট : মিয়ানমারের রাখাইনে আগস্টের ২৫ থেকে সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ডক্টরস উইদাউট বর্ডার (এমএসএফ) নামক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে মিয়ানমার সেনারা ৭৩০ শিশুকেও হত্যা করেছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাখাইনে সহিংসতার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করা যায় বলেই মনে করছেন বিশ্নেষকরা।

সাংবাদিক ও গবেষকদের প্রতিবেদন বিশ্নেষণ ও শরণার্থীদের সাক্ষাৎকার পর্যালোচনা করলে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। অধিকাংশ প্রতিবেদনই সবচেয়ে নিষ্ঠুর ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে মামলা করার সম্ভাব্য সুযোগও থাকে।

এ ক্ষেত্রে বাধা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ‘রোম সনদ’, যা সংস্থাটির গঠণকালীন সময়ের মূল দলিল, সেটিতে মিয়ানমার কখনোই স্বাক্ষর করেনি। কাজেই আদালতকে সহযোগিতা করতে তারা বাধ্য নয়।

তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা নিতে হলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রত্যেকের অনুমতি প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত চীন মিয়ানমার সরকার যেভাবে এই সংকট মোকাবেলা করেছে, তাতে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে এসেছে।

তবে সংবাদমাধ্যমে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের বিবৃতির পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান এটিকে ‘জাতিগত নিধনের উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এমএসএফের মেডিকেল ডিরেক্টর সিডনি ওয়ং বলেছেন, সহিংসতায় পরিবারের সদস্য হারানো মানুষের সংখ্যা আর সহিংসতার ধরনের বিচারে তাদের জরিপে উঠে আসা তথ্য রীতিমতো বিস্ময়কর।

এমএসএফের মতে, মারা যাওয়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৫৯% গুলিবিদ্ধ হয়ে, ১৫% অগ্নিদগ্ধ হয়ে, ৭% প্রহারের শিকার হয়ে আর ২% ল্যান্ডমাইন বিস্ম্ফোরণে মারা গেছে। লক্ষাধিক শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে নভেম্বরে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এমএসএফের হিসেবে এই চুক্তি সময়ের আগেই করা হয়েছে। তারা বলছে, এখনও রাখাইন থেকে পালিয়ে আসছে শরণার্থীরা আর এখনও সেখানে সহিংসতা অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি