মুক্তিযুদ্ধের যত চলচ্চিত্র

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশেই একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য প্রামাণ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং পূর্ণদের্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এত বেশি সংখ্যক চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে যে, দেশের বাইরেও তা প্রশংসা কুড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হেরাল্ড ট্রিবিউন পত্রিকার ভাষায়, ‘আগামী প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে গৌরব, গর্ব আর বেদনাগাথা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পালন করে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। দেশটির জন্য সত্যিই এটি আশা ও অহংকারের বিষয়। ’

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক বছরের মধ্যেই ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় চারটি চলচ্চিত্র। এগুলো হলো— চাষী নজরুল ইসলামের ‘ওরা ১১ জন’, সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, মমতাজ আলীর ‘রক্তাক্ত বাংলা’ এবং আনন্দের ‘বাঘা বাঙ্গালী’। এরপর ৪৫ বছর ধরে নির্মিত হয়েছে দেড় ডজনেরও বেশি মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক চলচ্চিত্র। এসব ছবি ও এর নির্মাতারা হলেন— ওরা ১১ জন (১৯৭২) চাষী নজরুল ইসলাম, রক্তাক্ত বাংলা (১৯৭২) মমতাজ আলী, বাঘা বাঙ্গালী (১৯৭২) আনন্দ, জয়বাংলা (১৯৭২) ফকরুল আলম, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২) সুভাষ দত্ত, ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩) আলমগীর কবীর, আমার জন্মভূমি (১৯৭৩) আলমগীর কুমকুম, সংগ্রাম (১৯৭৩) চাষী নজরুল ইসলাম, আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩) খান আতাউর রহমান, আলোর মিছিল (১৯৭৪) নারায়ণ ঘোষ মিতা, বাংলার ২৪ বছর (১৯৭৪) মোহাম্মদ আলী, মেঘের অনেক রঙ (১৯৭৬) হারুন-উর-রশিদ, কলমীলতা (১৯৮১) শহীদুল হক খান, নদীর নাম মধুমতি (১৯৯০) তানভীর মোকাম্মেল, আগামী (১৯৮৪) মোরশেদুল ইসলাম, একাত্তরের যীশু (১৯৯৩) নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, আগুনের পরশমণি (১৯৯৪) হুমায়ূন আহমেদ, মুক্তির গান (১৯৯৫) তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ, এখনো অনেক রাত (১৯৯৭) খান আতাউর রহমান, হাঙ্গর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭) চাষী নজরুল ইসলাম, মুক্তির কথা (১৯৯৯) তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ, মাটির ময়না (২০০২) তারেক মাসুদ, জয়যাত্রা (২০০৪) তৌকীর আহমেদ, শ্যামল ছায়া (২০০৪), হুমায়ূন আহমেদ, মেঘের পরে মেঘ (২০০৪) চাষী নজরুল ইসলাম, ধ্রুবতারা (২০০৬) চাষী নজরুল ইসলাম, খেলাঘর (২০০৬) মোরশেদুল ইসলাম, রাবেয়া (২০০৮) তানভীর মোকাম্মেল, মেহেরজান (২০১০) রুবাইয়াত হোসেন, খণ্ডগল্প ১৯৭১ (২০১১) বদরুল আলম সৌদ, আমার বন্ধু রাশেদ (২০১১) মোরশেদুল ইসলাম, গেরিলা (২০১১) নাছির উদ্দিন ইউসুফ, পিতা (২০১২) মাসুদ আখন্দ, জীবনঢুলী (২০১৩) তানভীর মোকাম্মেল, ৭১-এর গেরিলা (২০১৩) মিজানুর রহমান শামীম, ৭১-এর সংগ্রাম (২০১৪) মনসুর আলী, মেঘমল্লার (২০১৪) জাহিদুর রহিম অঞ্জন, অনুক্রোশ (২০১৪) গোলাম মোস্তফা শিমুল, হৃদয়ে ৭১ (২০১৪) সাদেক সিদ্দিকী এবং ৭১-এর মা জননী (২০১৪) শাহ আলম কিরণ।

চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে প্রায় সবই জাতীয় ও বাচসাস পুরস্কার, আন্তর্জাতিক ও বোদ্ধা শ্রেণির প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’।

১৯৭২ সালে মুক্তি পেয়েছিল সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী চলচ্চিত্রটি।

১৯৭৬ সালে হারুন-অর রশিদ নির্মাণ করেন ‘মেঘের অনেক রং’।

সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার শহীদুল হক খান সরকারি অনুদানে ১৯৮১ সালে নির্মাণ করেন ‘কলমীলতা’।

১৯৯৪ সালে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নিজের লেখা গল্পে নির্মাণ করলেন ‘আগুনের পরশমনি’। এর পর ১৯৯৫ সালে

‘মুক্তির গান’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে

জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে ১৯৯৭ সালে চাষী নজরুল ইসলাম নির্মাণ করেন ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ

নিজের লেখা মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে ২০০৫ সালে নির্মাণ করেন ‘শ্যামল ছায়া’। সর্ব শেষ নাছির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ২০১১ সালে নির্মাণ

করেন ‘গেরিলা’।

প্রামাণ্যচিত্র বলতে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘লিবারেশন ফাইটার্স’, ‘নাইন মান্থস টু ফ্রিডম’, ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’ ‘প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ’, ‘আগামী’, ‘প্রত্যাবর্তন’ ‘সূচনা’, ‘দুরন্ত’, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘ধূসর যাত্রা’, ‘৭১-এর যীশু’ ‘স্মৃতি ৭১’ ‘সেই রাতের কথা বলতে এসেছি’ প্রমুখ। বাংলাদেশ প্রতিদিন