টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন
ভারতের পররাষ্ট্রনীতি জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ নেপাল

মাছুম বিল্লাহ : ভারত সরকার যখন নির্বাচনী মৌসুমে পাকিস্তানকে নিয়ে ব্যস্ত, তখন এর আরেক প্রতিবেশী নেপালের দিক থেকে তার পররাষ্ট্রনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছে।

নেপালে কমিউনিস্টদের বিশাল জয়ের পর, ভারতের চক্ষুশূল কে. পি. শর্মা ওলি, যিনি তার বেইজিংয়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব লুকানোর কোন চেষ্টাই করেন না, সেই ওলিই জোটের বড় দলের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

গত বছর যখন ওলিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়, তখন তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ভারত মাওবাদিদের চাপ দিয়ে সমর্থন প্রত্যাহারের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবাদলে দূর থেকে ভূমিকা রেখেছে।

নেপালের নির্বাচনের আগে বলা যায় চীন সেখানে ক্যু করে ফেলেছে। জাতিসংঘ যেটাকে বলেছে, ২০১৫ সংবিধানের অধীনে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ।

সেটা হলো বিভক্ত দুই বিরোধী পক্ষ সিপিএন-ইউএমএল প্রধান ওলি ও সিপিএন নেতা পি.কে দহল প্রচন্ডকে একসাথে নিয়ে আসা। কৌশলগত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্রাহ্ম চেলানি যেমনটা বলেছেন, নেপালে কমিউনিস্টদের সরকার গঠন মানে তারা চীনমুখী হবে।

চেলানি বললেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার শুরুর দিকে, সমতলের মানুষ ও ভারতের সাথে ওলির অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সমালোচকরা তাকে নাম দিয়েছিল “তৈলাক্ত ওলি” (অয়লি ওলি)।

ওলি সেসময় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সঙ্কটের জন্য ভারতকে দায়ী করেছিলেন। তার ক্ষমতায় ফিরে আসাটা ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে খারাপ খবর।”

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানোয়াল সিবাল বলেন, ওলিকে সাবধান হতে হবে, কারণ যারা এই ক্ষমতার পালাবদলের পেছনে দুই কমিউনিস্ট জোটকে একসাথে হতে সাহায্য করেছে, সেই চীন তাদের কাজের প্রতিদান চাইবে।

“নেপালে চীনা প্রভাবের কথা সবারই জানা। আর মানুষ আশা করে, ক্ষমতায় আরোহনের পর অভিজ্ঞতার পরিচয় দেবেন ওলি যাতে ভারতের সাথে নতুন করে সমস্যার তৈরি না হয়,” মন্তব্য সিবালের।

ভারতপন্থী নেপালি কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের শিকার হয়েছে, যা এর আগে কখনও হয়নি। গত বছর শুরুর দিকে, ওলির শাসনামলে ভারতের উপর থেকে নির্ভরতা কমাতে চীনের সাথে বাণিজ্য ও ট্রানজিট চুক্তি করে নেপাল।

গত মাসে এক নির্বাচনী সভায় ওলি বলেছিলেন, ২০১৬ সালে চীন সফরকালে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে নেপাল অর্থনৈতিক অবরোধের যুগ পার হয়ে এসেছে।

ওই বক্তৃতায় ২০১৫ সালে ভারত কর্তৃক ‘অবরোধে’র প্রতি ইঙ্গিত করেন ওলি।

তখন নেপালে যে নতুন সংবিধান গৃহীত হয়, তাতে মাধেসিরা বৈষম্যের অভিযোগ আনলে ভারত কথিত ওই অবরোধ আরোপ করে। ফলে নেপালকে জ্বালানিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সঙ্কটে পড়তে হয়।

সেসময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওলি বলেন, চারদিকে স্থলবেষ্টিত একটি দেশের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ আন্তর্জাতিক চুক্তি, নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী।

এরই মধ্যে নেপালে চীনা উপস্থিতির আঁচ পাচ্ছে ভারত। তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে নেপালের সাথে এমন একটা সম্পর্ক বজায় রাখা, যাতে ওলির নেতৃত্বাধীন নেপাল প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপাকসা নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিকূল অবস্থানে চলে না যায়। অথবা মালদ্বীপের মতো না হয়, যারা চীনের সাথে সম্প্রতি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

তবে, মালদ্বীপের সাথে সম্পর্কের অবনতির পর নেপালেও একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে চেনালি মনে করছেন। অথচ এ দেশটির সাথে ভারতের নানা সামঞ্জস্য রয়েছে। এমনকি যাদের সাথে উন্মুক্ত সীমান্তও রয়েছে ভারতের। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।