নেপথ্যে চার টাকা
উত্তরায় দু’গ্রপের সংঘর্ষ, আহত ৫

নুরুল আমিন হাসান : রাজধানীর উত্তরায় মাত্র চার টাকার জন্য দু’গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের জুয়েল (৩৫), আলম (২৮), ইউসুফ (৩০), সাইফুল (৪৫) ও হামিম (২০) নামের পাঁচজন আহত হয়েছেন।

উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে গত বুধবার রাত ৮টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলে। আহতদের মধ্যে আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ইউসুফ টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদেন সময় ডটকমকে জানান, আব্দুল্লাহপুরের বেড়ীঁবাধের ফুটের উপর থাকা সাইফুলের ফলের দোকান থেকে কমলা নেন আলম। যার মূল্য ৫৪ টাকা বলে জানায় সাইফুল। কিন্তু আলম ৫০ টাকা দিয়ে ওই ফল নিতে চান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্কের এক পযার্য়ে বিষয়টি জানা জানি হলে দুই গ্রুপে মিলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।

তারা আরো বলেন, ফল ক্রেতা আলমকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার স্বজনরা আসলে তাদেরকেও বেঁড়ীবাধ, অটোস্ট্যান্ড ও পাবলিক টয়লেটের সামনে ফালিয়ে পেটায় দোকানদাররা। এ সময় তাদের একটি মোবাইল ফোন ও ৪৫ হাজার টাকাসহ মানিব্যাক নিয়ে যায় দোকানদাররা। পরে মানিব্যাক ও মোবাইল দিলেও ৪৫ হাজার টাকা দেয়নি তারা।

পরবর্তীতে পুলিশ এসে মারামারি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাাড়াও মারামারি করার অভিযোগে দুই জনকে আটকও করে পুলিশ। পরে তাদের থানা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

ভুক্তভোগী জুয়েল আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, ছোট ভাই আলম সাইফুলের দোকান থেকে কমলা কিনে। এ সময় কমলার ম্যল্য ৪ টাকা কম দিতে চাইলে খারাপ কথাবার্তা বলে সাইফুল। যার ফলে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে আলমকে মারধর করে। খবর পেয়ে আমরা দৌড়ে আসলে দোকানদাররা সবাই মিলে আমাদের উপরও হামলা করে। এতে আমার মাথা ফেটে গেছে। অপরদিকে সাইফুল ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ইউসুফ টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আলমের অবস্থা এখনও গুরুতর। তার ২৫ টি সেলাই লেগেছে। এ ঘটনায় সাইফুল ও তার ছেলে হামিমকে আটক করেছে পুলিশ।’

অপরদিকে দোকানদার সাইফলের ভাই নাহিদ বলেন, সাইফুলের দোকান থেকে ফর নেওয়ার পর ৪ টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে। এতে সাইফুলের মাথা ফেটে গেছে।

ওই রাতেই মারামারির বিষয়টি নিশ্চিত করে উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মাহমুদ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘৪ টাকাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় আমি নিজেও দুই জনকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু এ ঘটনা কাউকে আটক করা হয় নি’। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাইফুল বলেন, ‘আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর পর পুলিশের সাথে রফাদফা করে রাত ২টার দিকে থানা থেকে ছাড়া পেয়েছি’।