শয়তানের আরশ কোথায়?

সাইদুর রহমান : শয়তান মানুষের চিরশত্রু। প্রকাশ্য শত্রু। শয়তানের কাজ হলো মানুষকে আল্লাহর অবাধ্য করতে অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়া। শয়তান মানুষের রক্ত,মাংশ এবং শিরা-উপশিরায় মিশতে পারে। এমনকি মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণাও দিতে পারে। পারে মানুষের ইচ্ছা শক্তির সাথে মিশতে। তাছাড়া শয়তান মানুষের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তার সেনাদল প্রেরন করে। কিন্তু এত শক্তি থাকার পরেও যারা আল্লাহর বিশেষ বান্দা, তাদের আল্লাহ বিশেষ হেফাযতে রাখেন। ফলে শয়তান তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না।

এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি বলেন , নিশ্চয়ই ইবলীসের আরশ সমুদ্রের উপর প্রতিষ্ঠিত। সে লোকদেরকে ফিতনায় লিপ্ত করার জন্য তার বাহিনী প্রেরণ করে। শয়তানের নিকট সর্বাধিক বড় সেই, যে সর্বাধিক ফিতনা সৃষ্টিকারী। মুসলিম হাদীস নং ৬৮৪৫
অন্য আরেক হাদীসে এসেছে, জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইবলীস পানির উপর তার আরশ স্থাপন করে তার বাহিনী প্রেরণ করে। তাদের মধ্যে তার সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত সেই যে সর্বাধিক ফিতনা সৃষ্টিকারী। তাদের একজন এসে বলে, আমি অমুক অমুক কাজ করেছি। সে বলে, তুমি কিছুই করনি। অতঃপর অন্যজন এসে বলে, অমুকের সাথে আমি সকল প্রকার ধোঁকার আচরণই করেছি। এমনকি তার থেকে তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন না করা পর্যন্ত আমি তাকে ছেড়ে দেই নি। অতঃপর শয়তান তাকে তার নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে হ্যাঁ, তুমি একটি বড় কাজ করেছ। বর্ণনাকারী আ’মাশ বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেনঃ অতঃপর শয়তান তাকে তার বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়। মুসলিম হাদীস নং ৬৮৪৬

আরও এসেছে, জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শয়তান তার সৈন্য বাহিনীকে প্রেরণ করত, লোকদেরকে ফিতনায় লিপ্ত করে। তাদের মধ্যে সে-ই তার নিকট সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী যে অধিক ফিতনা সৃষ্টিকারী। মুসলিম হাদীস নং ৬৮৪৭