নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারণা জোরদার করা হচ্ছে

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: নিউইয়র্কে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আকাইদ উল্লাহর আত্মঘাতী বোমা হামলার চেষ্টার পর সেখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারণা জোরদার করা হচ্ছে। বাংলাদেশী আমেরিকান কমিনিটির কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এন মজুমদার বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।

সোমবার নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সব থেকে বড় বাস স্টেশনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আহত অবস্থায় আকাইদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে গতকাল (বুধবার/১৩ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের প্রধান মনিরুল ইসলাম আকাইদ উল্লাহর সাথে বাংলাদেশের জঙ্গিদের সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন।

ওই ঘটনার পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে  পড়েছে। বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী কাজে সচেতন বৃদ্ধি করা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ এন মজুমদার বলেন, ইতিমধ্যে আমরা ‘নো ইউ রাইট’ নামক একটি ক্যস্পাইন শুরু করেছি। এটা আগেও ছিল। কিন্তু এখন আমরা এটি আরও বেশি জোরদার করবো। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধের স্বপক্ষে শাসন ব্যবস্থা করবো। কমিউনিটির লিডার, বিভিন্ন সংগঠন এবং স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের বোঝানোর চেষ্টা করবো যেন এই ধরণের কোনো কর্মকাণ্ডে আমাদের দেশের নাম না আসে। সে ব্যপারে আমরা অতন্ত তৎপর ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছি এবং বিশেষ করে বাংলাদেশ আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আমরা কয়েকটা প্রোগ্রাম হাতেও নিচ্ছি।

এই ধরণের ঘটনার পর বরাবরই বলা হয় যে কমিউনিটির উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরব হওয়া কিন্তু কমিউনিটির লোকজন এ নিয়ে কতটা সরব?

জবাবে এন মজুমদার বলেন, সত্যি কথা বলতে আমাদের লোকজন সরব না। বিশেষ করে এখানকার মসজিদ এখানে প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার আমাদের লোক নামাজ পড়ে। এই ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম এবং মসজিদ কমিটির প্রেসিডেন্ট স্থানীয় যারা থাকে তারা যদি বাংলাদেশিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে সংঘবদ্ধভাবে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করতো এবং সরকারকে এই বিষয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করতো তাহলে এই ধরণের অপরাধ অনেকাংশেই কমে যেত।

এই হামলার পর বলা হচ্ছে আকাইদ উল্লাহ আমেরিকায় যাওয়ার পরে সন্ত্রাসী মনোভাবে প্রভাবিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে সেখানকার ছেলে-মেয়েরা যাতে উগ্রবাদে না জড়িয়ে পড়ে সে বিষয়ে এখন কী করা যেতে পারে?

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত হবে তাদের সন্তানদের এ বিষয়ে সচেতন করা। আর যদি কোনো বাবা-মা বুঝতে পারে তাদের সন্তানরা এই সব কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে, তাহলে পুলিশের সহযোগিতা নিতে হবে। কারণ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাইকোলোজিক্যাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত।  সেসব জায়গায় চিকিৎসা নিতে পারলে তারা ঠিকও হয়ে যেতে পারে।

নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় সন্ত্রসী ঘটনা ছিল নাইন ইলেভেনের ঘটনা, তাহলে এই ধরণের ঘটনার পর বাংলাদেশী কমিউনিটি কী ধরণের চাপের মুখে পড়েছিল?

এন মজুমদার বলেন, নাইন ইলেভেনের ঘটনার পড়ে তেমন কোনো চাপের মুখে বাংলাদেশ পড়েনি। কারণ, আমাদের সরকার সব সময় চেষ্টা করেছে যে একজনের কুকর্মের জন্য যেন সবাই শাস্তি না পায়। তারপরও সাইকোলজিক্যাল অনেক ডাইভার্সিটি হয়েছে। এইজন্য আমাদের উচিত হবে সন্ত্রাসবিরোধী স্লোগানের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করা।

সূত্র- বিবিসি বাংলা