ইসিতে আসছে পরিবর্তন
সুবিধা বাড়ছে সংবিধান পদধারীদের

হোসাইন : নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। নিরাপত্তার পরিধি বাড়ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের। সেইসঙ্গে এসব সাংবিধানিক পদধারীদের কিছু সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে। তবে অনেকের অতিরিক্ত সুবিধা ও ক্ষমতার দৌরাত্ম্য হ্রাস করা হচ্ছে। আর নির্ধারণ হচ্ছে অনেকের পদমর্যাদা ও কর্মপরিধি। একইসঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির পদ সৃজন ও নতুন দফতর সংযোজন হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ অফিসের পদ সৃজন, পদ পরিবর্তন, পদ উন্নীতকরণ এবং অফিস সরঞ্জামাদি ও যানবাহন অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার লক্ষ্যে গঠিত নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় পুলিশ প্রটেকশন থাকবে। এর জন্য পুলিশ প্রটেকশনে ব্যবহৃত পিকআপকের জন্য ১ জন ড্রাইভারের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডাবল কেবিনযুক্ত ১টি পিকআপের সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। আর সিইসি ও কমিশনারদের অতিরিক্ত আরেকটি গাড়ি বরাদ্দ রাখা ওই যানবাহনটি চালানোর জন্য ১ জন ড্রাইভারের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

কমিশনারদের মতো কমিশন সচিবের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২টি গাড়ি। এর জন্য অতিরিক্ত একজন চালকের পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিবের ক্ষমতা কমিয়ে কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হচ্ছে। এই পদে কর্মরত কর্মকর্তাকে অনুবিভাগের প্রধান থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিদ্যমান প্রশাসনিক অনুবিভাগকে প্রশাসনিক অনুবিভাগ-১ ও প্রশাসনিক অনুবিভাগ-২ হিসেবে বিভাজন করা এবং যুগ্ম সচিবের ২টি পদসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সৃজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

অতিরিক্ত সচিবের মতো উপসচিবদের ক্ষমতায় কিছুটা কাটছাঁট আনা হচ্ছে। এ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক প্রাধিকারভুক্ত গাড়ির পরিবর্তে প্রশাসনিকভাবে গাড়ির সংস্থান করা ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পদ সৃজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে যানবাহন শাখায় মেকানিক্স ও হেলপারের। আর যানবাহন পুল গঠনের পরিবর্তে একজন উপসচিবের অধীনে যানবাহন অধিশাখা এবং ২ জন সিনিয়র সহকারী সচিবের আওতায় ২টি শাখা সৃজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগে যুগ্ম সচিবের পদ সৃজনের প্রস্তাব বাদ দেয়া হয়েছে। তবে, ১০ পরিচালক, ৮ উপপরিচালকের পদ আগের মতো ৫ম গ্রেডে বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসের ১৯ পদের ন্যায় জেলা নির্বাচন অফিসারের ৪৫টি পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে এই প্রতিবেদনে।

এদিকে, বিদ্যমান কিছু পদ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের যুগ্ম সচিব ও উপসচিবের (আইন) পদবি পরিবর্তন করে আইন উপদেষ্টা করার বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর আইসিটি অনুবিভাগে একজন সিস্টেম এনালিস্টের পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার্থে নির্বাচন ভবনে চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এর জন্য ১ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন নার্স, ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন মেডিকেল অ্যাটেনডেন্টের পদ সৃষ্টির সুপারিশ এসেছে প্রতিবেদনে। প্রস্তাব করা হয়েছে, ইসি সচিবালয়ে ১টি প্রটোকল অফিসারের পদ সৃষ্টির জন্য। এছাড়া কিছু পদে গ্রেড উন্নীত করার সুপারিশ রয়েছে কমিটির প্রতিবেদনে। সূত্র: মানবকন্ঠ।