উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ধনীদের উৎসাহের সাথে কর দিতে হবে : অর্থপ্রতিমন্ত্রী

এ জেড ভূঁইয়া আনাস : দেশের সকল মানুষ করের আওতায় আছে। কিছু লোক কর এড়িয়ে যেতে বিভিন্ন অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে। তাদেরকে করের আওতায় আনতে সকলকে সহায়তা করতে হবে। দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই ধনীরা লুকোচুরি না করে উৎসাহের সাথে কর পরিশোধ করতে হবে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্রা) কর্তৃক আয়োজিত প্রগতিশীল কর সংস্কার শীর্ষক জাতীয় সংলাপে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের দেশের ব্যক্তিগত সম্পদগুলো উন্নত হচ্ছে কিন্তু দেশের সম্পদগুলো উন্নত হচ্ছে না। দেশের ধনীরা তাদের প্রতিষ্ঠান, তাদের বাড়িঘর জাঁকজমক করছে কিন্তু তারা তাদের চলফেরার রাস্তাগুলো ঠিক করতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। তারা তাদের চলাফেরার রাস্তাগুলো ঠিক করবেন না। তা ঠিক করতে হবে আমাদের কৃষক, শ্রমিক দিনমজুরদেরকে অর্থাৎ তাদের থেকে কর উঠিয়ে। যে লোক জীবনেও এ দালান-কোঠার ভেতরে ঢুকতে পারবেন না তিনি কেন এই রাস্তা ঠিক করতে কর দেবেন? ধনীদেরকে এই চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এম এ মান্নান বলেন, অনেকে বলেন আমরা দরিদ্র রাষ্ট্র। এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমরা মোটেও দরিদ্র নয়। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে ধরনের অপচয় হয় তা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এটার রোধ করা আমাদের দ্বারা সম্ভব নয়। আগামীতেও এটা রোধ করা যাবে কিনা সেটা এখন দেখার বিষয়।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার প্রধানরা এ অপচয় রুখতে চান কিন্তু পারেন না। কারণ এটা নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। এটা রুখতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রচুর পরিমাণ সমস্যা আছে। প্রত্যেক জায়গায় একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে। এটা রুখতে গেলেই বাধার পাহাড় নেমে আসে। যেহেতু রাজনীতি আপোষের একটি ব্যবস্থা তাই তাদের সাথে দ্বন্দ্ব করে কেউ টিকতে পারবে না। তাই সরকার প্রধানদের এখানে এসে আপোষ করতে হয়। সুতরাং কোনো সরকারই এসব অনিয়ম দূর করতে পারবে না।