‘প্রতিবন্ধী নারীদেরও যৌন আকাঙ্ক্ষা আছে’

আনিস রহমান: ইরানে এক কোটিরও বেশি মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু এই মানুষদের ঘিরে যে সংস্কৃতি সেখানে বিরাজমান আছে সেটি লজ্জাজনক। এই বিশেষ মানুষদের স্বাভাবিক যৌন-চাহিদার বিষয়টিকে ঘিরে রয়েছে এক ধরনের কুসংস্কার। প্রতিবন্ধী নারীদের ক্ষেত্রে এই কুসংস্কারের মাত্রাটা আরো বেশি।

উত্তর ইরানের বসবাস করেন ৪১ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী নারী মিত্র ফারাজানদেহ। স্বাভাবিক যৌন-চাহিদার ব্যাপারে তার নিজের অভিজ্ঞতা ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন বিবিসি সংবাদ মাধ্যমের  কাছে।

ফারাজানদেহ বলেন, ‘আমার বয়স যখন ১১ বছর তখন আমি বুঝতে পারি প্রতিবেশী এক যুবকের প্রতি আমার বিশেষ ভালো লাগা কাজ করছে।  কিন্তু সেই অনুভূতি শুধু অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আর কিছুই করার ছিল না ।   ‘ওই দিনগুলোতে, আমি নিজেকে মানুষ মনে করতাম না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও বিকলাঙ্গতার কারণে আমি মনে করতাম না আমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আমি মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতাম।’

‘১৪ বছর ধরে আমার ভালোবাসা নিজের মধ্যে আবদ্ধ ছিল। পরে আমার এই ভালোবাসা তার কাছে ও আমার পরিবারকে জানিয়েছিলাম। সে আমার ভালোবাসাকে সাদরে গ্রহণ করেছিল, কিন্তু আমার পরিবার তা মেনে নেয়নি।’

‘এটা কয়েক বছর ধরে আমার জীবনে নরকে পরিণত করেছে। গত ৩০ বছর ধরে আমি ওই মানুষটিকে ভালোবাসি; যদিও আমরা কখনোই একত্রিত হতে পারি নাই।’

‘আমি চাই রাতে আমার ভালোবাসার মানুষটা  পাশে থাকবে, স্পর্শ করবে।  টেনে নেবে আমাকে, মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দেবে। দুঃখজনক হলো আমাদের সমাজের অনেক মানুষ মনে করেন, আমার মতো মানুষেরা ভালোবাসতে পারেন না অথবা তাদের কেউ ভালোবাসতে পারে না। এই বিষয়টি আমাকে পীড়া দেয়।’

‘ঘটনা হচ্ছে আমি যাকে ভালোবাসি বাবা তার সঙ্গে আমাকে থাকার অনুমতি দেয়নি। এটা আমাকে যন্ত্রণা দেয়। আমার মতো অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ ভুগছেন কারণ, আমাদের যৌন ও মানসিক চাহিদাকে দমন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, শারীরিক অক্ষমতা জয় করে জীবন উপভোগ করার অধিকার আছে। আমরা যখন এটি বিশ্বাস করতে শুরু করবো তখন আশ-পাশের মানুষজন আমাদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে।

‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে, অনেক সময় প্রতিবন্ধী মানুষদের যৌন শক্তি সুস্থ মানুষের চেয়েও বেশি হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি