নেত্রকোণায় নদী ও উন্মুক্ত জলাশয় চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের দখলে (ভিডিও)

মোহাম্মদ রফিক : নেত্রকোণার হাওর অঞ্চল, নদী ও উন্মুক্ত জলাশয় অবৈধ ভাবে দখল করে চলছে মাছের ঘের ব্যবসা। এতে বিপাকে পড়েছেন ঐ অঞ্চলের নিম্ন আয়ের দরিদ্র মানুষ। মাছ ধরতে না পারায় মানবেতর দিন কাটছে তাদের। ঘের দখলকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ঘটছে সংঘর্ষের মত ঘটনা।

হাওর অঞ্চলের মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ শিকার আর বোর অবাদ। আগাম বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার পর মাছ ধরে কোন রকমের সংসার চলে নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি হাওর অঞ্চলের মানুষের। অথচ মাছ ধরার সুযোগও কমে সীমিত হয়ে আসছে, দূলোনদী এবং উন্মুক্ত জলাশয় দখলে নিয়ে মাছের ঘের তৈরি করেছেন প্রভাবশালীরা। এতে নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় জাল ফেলতে পারছেন না প্রকৃত মৎস্যজীবীরা।

এলাকাবসীরা জানায়, এই অঞ্চলে বন্যার কারণে আমাদের ফসল নষ্ট হয়েছে অনেক আগেই। এখন আমাদের জীবীকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে এই হাওর। কিন্তু আমরা হাওরে মাছ শিকার করতে পারছি না। দুই মাস আগেই এই হাওরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ হাওরে মাছ ধরতে না পারলে আমাদের সংসার কিভাবে চালবে।

এর প্রতিবাদ করায় জেলেদের নির্যাতনে শিকার হতে হচ্ছে। এতে সংঘাতময় পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে। গত মঙ্গলবার এমনই এক সংঘর্ষে প্রাণ গেছে একজনের।

মোন্দিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোকমান হ্যাকিম বলেন, নিয়ম মেনেই চলছে এসব এলাকায় ঘের ব্যবসা।  এটা কোন টেন্ডার বা প্রকল্পের মাধ্যমে আনা হয় নাই।

নেত্রকোনা জেলার পানি উন্নয়ন র্বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের বলেন, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, নদী দখল করে মাছ চাষ করার কোন নিয়ম নেই। তবে যদি কোন জলমহল থাকে তবে তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে লিজ দেওয়া হয়।

খালিয়াজুরিতে ছোট বড় ১৩৪টি হাওর আছে। এসব হাওরের দখল নিয়ে সংর্ঘষ ও প্রাণ হানির ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাড়িয়েছে।

সূত্র : যমুনা টিভি