শেষমেশ মিশার ‌‌‌‘স্ট্যান্টবাজি’!

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে সুর পাল্টালেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর। এই তো মাস দুয়েক আগেই চলচ্চিত্রের সবকটি সংগঠনের উল্লেখযোগ্য নেতা-কর্মীদের নিয়ে গঠিত ‌‌‌‌’চলচ্চিত্র পরিবার’-এর সঙ্গে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির ভেতর বিরোধ সৃষ্টি হয়। তখন প্রদর্শক সমিতির নেতাকর্মীরা জরুরি মিটিংয়ের মাধ্যমে মিশা সওদাগরের কোনো সিনেমা প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেন। আর সেদিনই সিনেমা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে অভিনয় না করার ঘোষণা দেন মিশা সওদাগর।

দেশীয় চলচ্চিত্রের এমন দুর্দিনে মিশা সওদাগরের মতো একজন শক্তিশালী অভিনেতা এবং শিল্পী সমিতির সভাপতির এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্তে অনেকটা হতবাক হয়ে যান চলচ্চিত্রপাড়ার বাসিন্দারা। সে সঙ্গে দর্শকমহলেও বিরাজ করে নানান কানা-ঘুষা। ওই সময় সাংবাদিকরা মিশা সওদাগরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি তো অনেকটা রাগ-অভিমানে ঝোঁকের মাথায় চলচ্চিত্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে কিনা! উত্তরে তিনি বলেছিলেন, না, রদ-বদল হবে না। আমি ভেবে চিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আমার অভিনয় জীবন থেকে পুরোপুরি ইস্তফা দিচ্ছি। প্রত্যাবর্তনের কোনো ইচ্ছা নেই।

যদিও মুখে এমন কথা বললেও, মিশা সওদাগরের এই সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি বিশ্বাস হয়নি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকের কাছে। এমনকি এই সিদ্ধান্তকে এক ধরনের ‌’স্ট্যান্টবাজি’ উল্লেখ করে অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, কোনো এক অজুহাতে ঠিকই আবার অভিনয়ে ফিরে আসবেন মিশা সওদাগর।

মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে সেই কানাঘুষাই যেন সত্যি হচ্ছে, পাশাপাশি মিশার ‌’স্ট্যান্টব্যাজি’ও যেন প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। সুর পাল্টিয়ে মিশা সওদাগর এখন বলছেন, ‌’আমি সিনেমার মানুষ। সিনেমাকে ছেড়ে কী একেবারে চলে যাওয়া সম্ভব! তাছাড়া আমি সিনেমা থেকে একেবারে চলে যাবো, এমন কথাও কখনো বলিনি। মাঝে মধ্যে কিছু প্রিয় মানুষের কিছু ভালো কাজ করতে হবে। কারণ, না চাইলেও অনুরোধ ফেলতে পারব না। ক্যামেরার সামনে একেবারে দাঁড়াবই না, এমনটি বলিনি। বলেছি, শতভাগ পেশাদার মনোভাব থেকে দূরে থাকবো। বাণিজ্যিক সিনেমায় আর কাজ করবো না।’

এখানেও অনেকটা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন মিশা সওদাগর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরইমধ্য গোপনে গোপনে ব্শে কয়েকটি নতুন সিনেমাতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মিশা। শুধু তাই নয়, আগামী সপ্তাহ থেকে টানা শুটিং করবেন তিনি। আর যেসব সিনেমায় তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, তার সবগুলোই পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিনেমা।