পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে

আনোয়ার হোসেন: যেই বাংলাদেশকে শোষণ-নিপীড়নে নিষ্পেষিত করতে চেয়েছিল পাকিস্তান, সেই বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের চেয়ে অনেক কিছুতেই এগিয়ে। ৭১ এ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির প্রধান লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো। এর মধ্যে দেশটি ঘুরেও দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি তুলনা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ৪৬ বছরের অগ্রগতিতে বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ এখন পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ ১ হাজার ৫৩৮ ডলার। যা পাকিস্তানের চেয়ে ৬৮ ডলার বেশি। পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ ১ হাজার ৪৭০ ডলার।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ১৭ লাখ। যা বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ। আর বর্তমানে পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২০ কোটি ৭৮ লাখ। বিশ্বের পঞ্চম জনবহুল দেশ এখন পাকিস্তান। আর এ কারণেই মাথাপিছু জিডিপির হার কমেছে পাকিস্তানের।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিহাসে প্রথম উচ্চমাত্রায় প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। বর্তমানে জিডিপির আকার ২৪ হাজার ৯৬৮ কোটি ডলার। জিডিপির আকার ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে স্বাধীনতার পর ৩৪ বছর লেগেছে।

স্বাধীনতার পর যেখানে মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশই এখন গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে (বিশ্ব ক্ষুধাসূচক) পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে। ২০১৭ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮, যেখানে পাকিস্তানের ১০৬। যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশে যখন বস্ত্র-কাপড়ের সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই দেশই এখন পাকিস্তান, ভারতের চেয়েও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এগিয়ে।