সতেজ থাকুন পাতায় পাতায়

নাসরিন বৃষ্টি: শীত আসলেই ত্বকের সজীবতা হারিয়ে যায়। চুলে দেখা দেয় রুক্ষতা, গলায় খুশখুশে ভাব। প্রকৃতিকে মোকাবিলা করতে প্রাকৃতিক উপাদনগুলোই সেরা। অনেক সবুজ পাতা আছে, যা খেলে এবং ব্যবহার করলে ত্বক, চুল ও শরীরে আসবে সতেজতা। নানা রকম পাতার ব্যবহারে থাকবেন চিরসবুজ।

* তুলসী পাতা: ত্বকের বাইরের ও ভেতরের অনেক সমস্যাই দূর হয় এ পাতায়। তুলসী পাতায় আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও এসেনশিয়াল তেল, যা কাজ করে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে। তুলসী পাতার রস রক্ত পরিষ্কার করে ব্রণ কমাবে, ঠান্ডার প্রবণতা দূর করবে এবং হজমের কাজটাও বেশ ভালোভাবে করবে। এই পাতা বেটে লাগালে ত্বক মসৃণ হয়। এ ছাড়া ত্বক পুড়ে গেলে তুলসীর রস নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে লাগালে দাগ চলে যাবে। তুলসী পাতা ও বেসনের প্যাক দাগের জন্য ভালো।

* নিমপাতা: এতে প্রচুর ভিটামিন ই ও ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ত্বকের ও চুলের জন্য উপকারী। রক্ত পরিশোধন করে ত্বক পরিষ্কার করে। পেটের জন্যও উপকারী ভূমিকা পালন করে। নিমপাতা বেটে তার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের দাগ দূর করবে। আবার নিমপাতার রস চুল পড়া বন্ধ করে, খুশকি ও উকুন দূর করে।

* পুদিনা পাতা: পুদিনা পাতায় ভিটামিন এ ও ডি, অ্যান্টি-অক্সিজেন ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টেস রয়েছে। পেটের যেকোনো সমস্যা দূর করে ঠান্ডা রাখবে। ত্বকের জন্যও উপকারী। পুদিনা পাতা বেটে ১০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ ও দাগ কমে যাবে। এ ছাড়া পুদিনা পাতা বা এর শিকড়ের রস চুলে গোড়ায় লাগিয়ে কাপড় পেঁচিয়ে রেখে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। উকুন কমে যাবে।

* ধনেপাতা: ধনেপাতায় ভিটামিন এ, সি, ফসফরাস, ক্লোরিন থাকে। ধনেপাতা ত্বকের প্রাকৃতিক ব্লিচের কাজ করে ও উজ্জ্বল করে। চুলের ক্ষয়রোধ করে। ধনেপাতা খেলে পেট ও রক্ত পরিষ্কার হয়। ভেতর দিয়ে ত্বককে ভালো রাখে ও উজ্জ্বল করে। শসা, কারি পাতা, অর্ধেক লেবু ও ধনেপাতা বেটে মুখে লাগালে দাগ দূর হবে।

* চা পাতা: চা-পাতায় ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে। এ ছাড়া গ্রিন টিতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। ব্রণ দূর করতে ও চুলের যত্নে এর জুড়ি নেই। মধুর সঙ্গে চা-পাতা দাগ, ব্রণ কমায়। গ্রিন টির পানি চুল পড়া বন্ধ করবে। রক্ত পরিষ্কার করতেও সহায়তা করে গ্রিন টি।