প্রতিকূলতায়ও গানের ভুবনে সফল ব্যক্তিত্ব দিলরুবা খান

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার : দিলরুবা খান বাংলাদেশের লোক সংগীতের একজন জনপ্রিয় শিল্পী। পারিবারিক সহস্র বাঁধা থাকার পরও গানে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন নিজেকে। তবে স্পেস পাওয়ার পর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তার প্রবল আগ্রহ ও তীক্ষ্ণ মেধাশক্তি তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়।

তিনি বলেন, আমি সৈয়দ বংশের মেয়ে বলে আমার বাবা গান করা অপছন্দ করতেন। আমার বাবা বলতেন সৈয়দ বংশের মেয়েরা গান বাজনা এসব করে না। তবে আমার বাবা হামিদুর রশিদ বগুড়া ও রংপুর বেতারের শিল্পী ছিলেন। একদিন আমি শিল্পী আবদুল আলিম মারা যাওয়ার পর তার বাসায় গিয়েছিলাম। তখন আবদুল আলিমের স্ত্রী আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন- আপনার মেয়ে গান করে না? আমার বাবা বললেন সৈয়দ বংশের মেয়েদের গান করতে নেই।

তখন আমি বলে উঠলাম আন্টি, কিন্তু আমি গান করতে চাই। তারপর তিনি বলেন, তোমার চাচার হারমোনিয়ামটা আমি তোমাকে দিয়ে দিব। আর আমার ছেলে জহির আলিম তোমাকে গান শিখিয়ে দিবে। এ অনুপ্রেরণা পাওয়ার পর তিনি ১৯৮৬ সালে বেতার ও টেলিভিশন উভয় পরীক্ষায় পাশ করেন।

‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল, রেললাইন বহে সমান্তরাল’ এ গানের মাধ্যমেই তার জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু। এরপর ৯০ এর দশকে দিলরুবার জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে তখন শরীরের স্থুলতার কারণে তিনি বেশ মোটা হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর তিনি শরীর নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশকিছু ঔষধ সেবন করতে থাকেন। কিন্তু ওষুধের প্রতিক্রিয়া তাকে আরো অসুস্থ করে দেয়। যার কারণে তিনি কিছুদিন গানের ভুবন থেকে দূরে অবস্থান করেছিলেন।

দিলরুবা আরো জানান, গানের ভুবনে আসতে একটুও কষ্ট করতে হয়নি। একদিন একজন সুরকার মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ তার বাসায় এলেন এবং তাকে পরদিন গান করার জন্য যেতে বললেন।

তিনি বলেন – সেদিন আমি এত খুশি হয়েছিলাম যে আমাকে কখন যেতে বলা হয়েছে সেটিও ভুলে গিয়েছিলাম। সকালেই আমি গিয়ে উপস্থিত। কিন্তু আমাকে যেতে বলা হয়েছিল বিকেল বেলায়।

১১ডিসেম্বর সোমবার বিবিসি বাংলার পরিক্রমার গাল গল্প সাক্ষাতকারে দিলরুবা তার বর্ণাঢ্য জীবনের এসব কাহিনী জানান।