মানবজীবনে রাসুলুল্লাহ (সা.) আদর্শের প্রয়োজনীয়তা

মুহাম্মাদ আবু আখতার : রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মানবজাতির কল্যাণ রয়েছে। তাই আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবজাতিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রাসুল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মান, জেনে রাখ আসমানসমূহে ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছুই আল্লাহর। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, প্রাজ্ঞ।’
(সুরা নিসা: ১৭৹)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণের ফযীলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে অনুসরণ করে চলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ভালোবাসেন এবং তার গোনাহসমূহ মাফ করে দেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, (হে নবী!) ‘আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদের ভালবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল দয়ালু।’
(সুরা আলি ইমরান: ৩১) একমাত্র আল্লাহর হুকুম পালন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণের মাধ্যমে চিরস্থায়ী সুখময় জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করা সম্ভব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ মত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে ¯্রােতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।’ (সুরা নিসা: ১৩) রাসুলুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণের মাধ্যমে মূলত আল্লাহ তায়ালার হুকুম মেনে চলা হয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণ করার অর্থ আল্লাহর হুকুম মান্য করা। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণ না করার অর্থ আল্লাহর হুকুম অমান্য করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে লোক রাসুলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে নবী) তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।’ (সুরা নিসা: ৮৹)

সত্য পথ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরও যারা রাসুলুল্লাহ (সা) এর বিরোধিতা করে বিধর্মীদের অনুসরণ করে তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে কেউ রাসুলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান।’
(সুরা নিসা: ১১৫) এ দুনিয়াতে যারা রাসুলুল্লাহ (সা) এর অনুসরণ করে না কিয়ামতের দিন তাদের আফসোসের কোনো সীমা থাকবে না। তারা সেদিন তাদের আঙ্গুল কামড়াতে থাকবে আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণ না করার কারণে আফসোস করতে থাকবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, জালেম সেদিন আপন দুটি হাত দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের পথ অবলম্বন করতাম।’ (সুরা ফুরকান: ২৭)

এমনকি তারা যখন নিজেদের ভযাবহ পরিণতি চোখের সামনে দেখতে পারবে তখন যমীনের সাথে মিশে যাওয়ার আকাঙ্খা প্রকাশ করতে থাকবে৷ সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফির হয়েছিল এবং রাসুলের নাফরমানি করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু তারা আল্লাহর নিকট কোনো বিষয় গোপন করতে পারবে না।’ (সুরা নিসা: ৪২) লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।