বিদেশিদের চোখে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল

জান্নাতুল ফেরদৌসী: ১৯৭১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। বদলে গেছে বিশ্বসভায় বাংলাদেশের অবস্থান। প্রতিবেশী ভারত, চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ তথা পশ্চিমা বিশ্ব এমনকি জাতিসংঘ সব জায়গায় মর্যাদার আসনে বাংলাদেশ। গার্মেন্টস থেকে শান্তিরক্ষী মিশন সব জায়গায় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত মেইড ইন বাংলাদেশ। তাই বিদেশিদের চোখে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। সূত্র: যমুনা টিভি

বিদেশি কূটনীতিকদের আশা, কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও ২০২১সালে মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের পরের অবস্থা থেকে বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতে পারবে কিনা সেই সংশয়ে ছিল অনেকেই। জীব্দশাতেই বিশ্বসভায় ন্যায়ের পক্ষে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, একটি ন্যায় সঙ্গত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবস্থা গড়ে তোলার কাজে আমাদের আরো তরিল ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

সে সময়ে সাড়ে ৭ কোটি মানুষ এখন ১৬ কোটি। তারপরও খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। ১৯৯১ সাল থেকে পুরোটা সময় সরকার ও বিরোধীদলীয় প্রধান নারী। নারীর ক্ষমতায়নের মতো শিক্ষায় ঘটেছে বিপ্লব, স্বাস্থ্য খাতে সফলতা ঈর্ষণীয়। সামাজিক, অর্থনৈতিক অনেক সূচকেই এখন রীতিমতো রোল মডেল বাংলাদেশ।

ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, উন্নয়নের এক অসাধারণ গল্প বাংলাদেশ। ঔপনোবেশিক শাসন, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দারিদ্র্য সবকিছু জয় করে মধ্যম আয়ের দেশের পথে অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের। এরকম উদাহরণ পৃথিবীতে সত্যিই কম। গণতন্ত্রের মতো শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা খুব সহজ নয়। কারণ এখানে সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করতে হয়। আমাদের দেশকেউ এরকম অবস্থার মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে।

ঢাকায় ইইউ মিশন প্রধান রেনচা টিয়ারিঙ্ক বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দারুণ অর্থনৈতিক অবস্থা বাংলাদেশের। ৬ থেকে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকা কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটনা। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো করছে।

ঢাকায় সুইজারল্যাণ্ডের রাষ্ট্রদূত রেনো হোলেনস্টাইন বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি ঈর্ষণীয়। ধারাবাহিক সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি ছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা আর সামাজিক নানা সূচকে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ। কথিত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ কিভাবে উন্নত হয় তার উদাহরণ হয়ে থাকবে বাংলাদেশ। অনেকেই বলেন, বাংলাদেশের সরকারি অফিসগুলো কাজে অনেক সময় নেয়। আবার টেকসই নির্বাচনের জন্য ভালো গুণও কিন্তু জরুরি।

অবকাঠামো বিশেষ করে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ খাতে হয়েছে অনেকটা কাঙ্খিত উন্নয়ন, বেড়েছে মানুষের আয়, গড় আয়ু। এসব সূচক দেখে বিস্মিত বিদেশিরাও। বিদেশিরা বলছেন, সঠিক পথেই বাংলাদেশের অর্থনীতি।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফেকিতামোয়েলা উতোইকামানু বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার দারুণ আন্তরিক। মধ্যম আয়ের দেশ হতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলোও কাজ করছে। আমি আশাবাদী আগামী বছর মার্চেই জানা যাবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হলো কিনা তার আনুষ্ঠানিক ফলাফল।

বিদেশি কূটনীতিকরা বলছেন, চ্যালেঞ্জও আছে কিছু। বিশেষ করে রাজনীতি আর প্রশাসনে গুণগত পরিবর্তন না হলে ব্যাহত পারে লক্ষঅর্জন।

ঢাকায় ইইউ মিশন প্রধান রেনচা টিয়ারিঙ্ক বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি ও সচ্ছতা নিশ্চিত করা খুব জরুরি। এটা না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে না।