বন্দরে আরও ৬ আরটিজি, গতি পাচ্ছে এনসিটি

ডেস্ক রিপোর্ট : পাঁচ জেটির নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) নির্মাণ কাজ ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়ে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের খরচ হয় ৪৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরে দুটি জেটির পেছনের ইয়ার্ড তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৯৮ লাখ টাকা।

অপারেটর নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি সংকটে বৃহৎ এ টার্মিনালটি ৮ বছর চালু করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে ২০১৫ সালের টার্মিনালটি বেসরকারিভাবের পরিচালনা শুরু হলেও যন্ত্রপাতি সংকট ছিল প্রকট।

১ হাজার ১২০ কোটি টাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালের জন্য ছয় ধরনের ৬১টি যন্ত্রপাতি কিনতে ২০১২ সালে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে একটি যন্ত্রও কিনতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

তবে ২০১৭ সালে রিভাইজড ডিপিপি তৈরির পর কাজে গতি আসে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ১৯টি আরটিজি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের মার্চে ১১টি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্তের পর প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রণালয়।

চলতি বছরের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে প্রথম চালানে চীন থেকে তিনটি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন(আরটিজি) আসে। কালমার ব্রান্ডের আরটিজিগুলো নিয়ে এনসিটি-৫ জেটিতে ভিড়ে দাদানাক্সিয়া জাহাজ।

চলতি মাসের শুরুতে চীন থেকে চারটি এবং সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুবাই থেকে টিজিপিসি ব্রান্ডের দুটি আরটিজি নিয়ে আসে ইউনাইটেড হেভি লিফট জাহাজটি। আরও দুটি আরটিজি আগামী বছরের জুনে বন্দরে আসবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ২০১৭ সালে বিপুল ভারি যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এতে এনসিটির সক্ষমতা বাড়বে। ফলে বন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ব্যবহারকারীরাও সেবা পাবেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও বন্দরে যন্ত্রপাতি যোগ হচ্ছে এটি ভাল সংবাদ। যন্ত্রপাতি যত বাড়বে বন্দরের সক্ষমতাও তত বাড়বে। সক্ষমতা বাড়াতে যন্ত্রপাতি বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, বন্দরের প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে তাতে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চলতি বছরে মোট ৫৪টি ভারি যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে।

তিনি জানান, আরটিজি ছাড়াও ৬টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন ক্রয় করা হচ্ছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে বন্দরে আসবে। টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে আরও চারটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেনের।

সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ডিপিপি অনুযায়ী ১০টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন, ২০টি আরটিজি, একটি রেইল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরএমজি), ১০টি স্ট্যাডাল ক্যারিয়ার, সাত টনের ১০টি রিচ স্ট্যাকার ও ১০টি কন্টেইনার মোভার ক্রয়ে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ডিপিপি তৈরির পর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এসব যন্ত্রপাতির ক্রয় পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতামত দেওয়ার জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে সংসদীয় কমিটির একজন সদস্যের দাবি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই ডিপিপি বাস্তবায়ন হয়নি।

সূত্র : বাংলা নিউজ