কমেনি ভেজালের দৌরাত্ম্য পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ!

ডেস্ক রিপোর্ট : শুরু হয়ে গেছে পর্যটন মৌসুম। এ সময় পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়ে গেছে বহু গুণ। বৈধ ব্যবসায়ীদের চেয়ে অবৈধ পণ্য কারবারিদের কার্যকলাপ চলছে সমানতালে। স্থানীয়রা এই প্রতিবেদককে বলেছেন, অবৈধ পণ্যের ব্যবসা চলে সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে। তবে পুলিশ সবই জানে।

গত ৩০ নভেম্বর দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদে ‘নকল আচারে সয়লাব কক্সবাজার, প্যাকেটে বালু, তৈরি হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে’ শীর্ষক প্রতিবেদন ছাপা হলেও এখনো পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পুলিশের নাকের ডগায় এসব অবৈধ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার প্রসার আরো বাড়াচ্ছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন নকল পণ্যে সয়লাব। বার্মিজ নামে নকল পণ্যের ছড়াছড়ি বার্মিজ মার্কেটসহ পুরো শহর ও শহরতলির দোকানগুলোয়। নকল পণ্যের পসরা সাজিয়ে রাখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

কক্সবাজার শহর ও শহরতলিতে ভেজাল আচার তৈরির জন্যই গড়ে উঠেছে অন্তত ২১টি নকল কারখানা। যার কোনো অনুমোদন নেই। এমনকি নকলের ভিড়ে আসল চেনা কষ্টকর হয়ে পড়েছে পর্যটকদের কাছে। নকলের ঠেলায় আসল পণ্য উধাও হওয়ায় ভেজাল আচার কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন পর্যটকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারে ভেজাল আচার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদেরই একজন লারপাড়ার বাটপার জসিম। জসিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নকল আচার তৈরির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পেটের দায়ে করি। তবে আপনারা যতটা ভাবছেন ততটা না। আমরা অল্প টাকার ব্যবসা করি।’ এই সিন্ডিকেটে আছে আমিন (বাহারছড়া), বউ করিম (বিজিবি ক্যাম্প, ঝিলংঝা), মো. ইউনুস (লারপাড়া, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল), পুতু (দক্ষিণ ডিককুল, ঝিলংঝা), বাটপার জসিম উদ্দিন (বন্দনপাড়া, সমিতিপাড়া), নেজাম উদ্দিন (লারপাড়া), মো. রহিম (লারপাড়া), মো. ফরহাদ (লারপাড়া), নুরুল আজিম (পূর্ব লারপাড়া) ও মো. হাফেজ (খুরুস্কুল) ছোট ছোট খুপরিতে এসব নকল আচার তৈরির কারখানা গড়ে তুলে অবাধে ব্যবসা করে আসছেন। তবে জসিমের সঙ্গে কথা বলে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। জসিমের ভাষায় স্থানীয় থানাকে ম্যানেজ করে তারা এসব অবৈধ ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছেন। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানার ওসি রণজিত কুমার বড়ুয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, না না এগুলো মিথ্যা কথা। কে বলছে এসব কথা? তখন ওসিকে নকল আচার ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের নাম বলা হলে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। আমি দেখছি কী করা যায়।’

কক্সবাজার থানার ওসির সঙ্গে কথা বলার পর তিন দিন পার হলেও অভিযুক্তরা দিব্যি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরো দ্বিগুণ উৎসাহে চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। আরো জানা গেছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে তারা তাদের এসব অবৈধ পণ্য বাজারে সাপ্লাই দেবে।

আরেক নকল আচার ব্যবসায়ী পূর্ব লারপাড়ার নুরুল আজিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খেপে গিয়ে বলেন, ‘তো কী করব? আমরা কি গুটির (ইয়াবা) ব্যবসা করি? আমরা আচারই তো বানাই। আপনি কী নিউজ করছেন এর মধ্যে ৫০ সাংবাদিক ফোন দিয়েছেন।’ ‘আপনাদের আচার ভেজাল। এসব আচার খেয়ে মানুষ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আপনাদের কাজ অবৈধ, এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে নুরুল আজিম আরো খেপে গিয়ে বলেন, ‘হইলে হচ্ছে। আমরা কি ব্যবসা করব না।’

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আরেক নকল আচার ব্যবসায়ী লারপাড়ার ফরহাদও এসব ব্যবসার কথা স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, ‘ভাই আমরা ব্যবসা করতে এসে এরে-ওরে টাকা দিতে দিতে তো ফতুর হয়ে যাচ্ছি।’ জানা গেছে, এর আগে থানা পুলিশ তাদের আটক করলেও ৫-৬ হাজার টাকা খরচ করে তারা দিব্যি ছাড়া পেয়ে গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের কলাতলী, লারপাড়াসহ আরো কিছু স্থানে প্রচুর জায়গা-জমির মালিক বনে গেছে এই সিন্ডিকেটের কয়েকজন। তাহলে তাদের এত টাকার উৎসই বা কোথায়? স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ পারে না এমন কোনো কাজ আছে নাকি? পুলিশ সব জানে। তাদেরও চিনে। কিন্তু পুলিশ তাদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে চুপ করে থাকে। থানা যদি দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের না ধরে তাহলে ওদের ব্যবসা কোনোদিন বন্ধ হবে না।’ প্রতিদিনের সংবাদ