দুর্দান্ত রোনালদো, অবিশ্বাস্য রিয়াল

খেলা ডেস্ক : এ ম্যাচে যে রিয়াল মাদ্রিদ জয় পাবে সেটা জানা ছিল। কেন? কারণ, ব্যালন ডি’অর জয়ের পরের ম্যাচে খেলতে নেমে রোনালদোর দল কখনো জয় ছাড়া মাঠ ছাড়েনি। এ ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম কেন হবে। তাই বলে লিগে সমানে সমান চলা প্রতিপক্ষকে এমনভাবে দুমরে মুচড়ে দেওয়া জয়! বার্নাব্যুতে আজ সেভিয়াকে নিয়ে রীতিমতো খেলেছে রিয়াল। লিগে পাঁচে থাকা দলকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল। সে সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে, লা লিগার দৌড়ে এখনো হাল ছাড়েনি তারা।

এ ম্যাচ ছিল রোনালদোর জন্য বিশেষ কিছু। আজ মাঠে নেমেছিলেন একটি তথ্য মাথায় নিয়ে। জিতলেই ক্লাব ক্যারিয়ারে ৫০০তম জয়ের দেখা পাবেন, এমন ম্যাচে রোনালদো কি আর চুপচাপ থাকেন! বিশেষ করে, আগের দিনই যখন নিজেকে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে দাবি করেছেন? চারটি গোলের সঙ্গেই জড়িয়ে ছিলেন রোনালদো।

সেরার দাবি তাঁর ক্লাবও করে। বিশ্বসেরা ক্লাবের দাবিদার রিয়াল। ইতিহাসও তাদের পক্ষে কথা বলে। তবু এ মৌসুমের প্রথম অংশটা ভুল কিছু বোঝাচ্ছিল। আজকের ম্যাচে প্রশ্নটা আরও বড় হয়ে উঠতে পারত। রক্ষণে মূল একাদশের তিন খেলোয়াড়ই নেই। সার্জিও রামোস ও দানি কার্ভাহালের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে ভারানের চোট। চাপটা একটু কমাতে পারতেন যিনি, সেই কাসেমিরোও আটকা পড়েছেন নিষেধাজ্ঞায়। আজ রিয়ালের রক্ষণ নিয়ে খেলার সুযোগ ছিল সেভিয়ার।

কিন্তু ম্যাচে যা হলো তা যেন গ্রিক পুরানের গল্প! সাইরেন যেমন গানের সুরে বোকা বানিয়ে অসহায়ভাবে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলত অসহায় নাবিকদের, ঠিক তেমনি রক্ষণের অসহায়ত্ব নিয়ে নামা রিয়াল আক্রমণের তেজে গুঁড়িয়ে দিল সেভিয়াকে।

২ মিনিটেই প্রথম ইঙ্গিতটা দিলেন দিলেন লুকাস ভাসকেজ। মার্কো এসেনসিওর দারুণ এক পাশ থেকে বাঁ পোস্টে শট নিয়েছিলেন। সেভিয়া গোলরক্ষক সার্জিও রিকো দারুণ এক সেভে দলকে বাঁচিয়ে দিলেন, এক মুহূর্তের জন্য। কারণ পরের মিনিটেই কর্নার থেকে আসা বল সেভিয়ার রক্ষণের ভুলের সুযোগে জালে পাঠালেন নাচো।

পরের মিনিট পনেরো দুই দলই একটু সাবধানী ভঙ্গিতে এগোল। তখনো ঝড়ের ইঙ্গিত মেলেনি। ২৩ মিনিটে এসেনসিওর এক পাসেই শুরু হলো সেভিয়ার দুর্ভাগ্য। আপাত নিরীহ এক আক্রমণ থেকেই অসাধারণ এক থ্রু পাস এসেনসিওর। হঠাৎ করেই নিজেকে ফাঁকায় আবিষ্কার করা রোনালদো সেখান থেকে গোল বের করে নিতে ভুল করেননি। দুই গোলে এগিয়ে থাকলেই এ মৌসুমে রিয়ালকে সন্তুষ্ট মনে হচ্ছিল, কিন্তু আজ সেটা হয়নি।

একের পর এক আক্রমণ, আর তারই ফল ৩১ মিনিটে মার্সেলোকে আটকাতে গিয়ে জেসুস নাভাসের বলে হাত লাগিয়ে ফেলা। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান (৩-০) বাড়ালেন রোনালদো। এ গোলেই টানা সাত বছরে এক পঞ্জিকাবর্ষে কমপক্ষে ৫০ গোলের রেকর্ড গড়লেন রোনালদো। পরের চার মিনিটেই আরও দুবার এগিয়ে যেতে পারত রিয়াল। গোলের ক্ষুধা নিয়ে নামা অতৃপ্ত রিয়াল একের পর এক আক্রমণ করেই যাচ্ছিল আর সেভিয়াকে বারবার বাঁচিয়ে দিচ্ছিলেন রিকো।

৩৮ মিনিটে রিকোও পারলেন না দলকে বাঁচাতে। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিলেন রোনালদো। সে বল ক্রুসকে দিতেই, মাঝমাঠ থেকে ডি-বক্স পর্যন্ত একাই দৌড়ে এলেন ক্রুস। বক্সের কাছে এসে বল দিলেন ভাসকেজকে। ফিরতি বলে বাঁ পায়ের এক টোকা ক্রুসের। ৪-০ গোলে এগিয়ে গেল রিয়াল।

তাতেও তৃপ্ত হয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। চার মিনিট পরেই আবারও রিয়ালের গোল। এবারও তাতে অবদান রইল রোনালদোর। বেনজেমার সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সের সামনে বেনজেমাকে বল ফিরিয়ে দিলেন রোনালদো। সে বল থেকে নিজে শট না নিয়ে আগুয়ান আশরাফ হাকিমিকে বল দিলেন বেনজেমা। চমৎকার এক শটে রিয়ালের পক্ষে নিজের প্রথম গোলটা করে নিলেন এই রাইটব্যাক (৫-০)। ৪৪ মিনিটে ভাসকেজ একটু আগে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে অর্ধ ডজন গোল হয়ে যেত রিয়ালের।

এমন দাপুটে প্রথমার্ধের পর আয়েশি ভঙ্গিতে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে রিয়াল। যে কয়েকবারই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেটাও কাজে আসেনি। রোনালদো নিজেও গোল না করে বেনজেমাকে গোল করাতে মন দিলেন। ৬৬ মিনিটেই সেটা হতে পারত। কিন্তু মার্সেলোর ক্রসে দারুণ এক হেড করলেও ক্রসবার বাধা হয়ে দাঁড়াল বেনজেমার সামনে।

এমন অনায়াস জয় বলেই কিনা ৭৫ মিনিটে প্রায় অভাবনীয় একটি বিষয়ও দেখা গেল। অনেক দিন পর মাঠ থেকে তুলে আনা হলো রোনালদোকে। পাঁচজন মিডফিল্ডার নিয়ে বল দখলে মন দিল রিয়াল। তবু একটু পরপরই সেভিয়া গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিয়েছে তারা। শেষ দশ মিনিটের প্রায় পুরোটা সময় সেভিয়ার অর্ধেই কাটিয়েছেন রিয়ালের ৯ জন খেলোয়াড়। রিকো বাধা না হলে রিয়ালের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। প্রথম আলো