মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার এখনও অভিভাবকহীন

শাকিল আহমেদ : উদ্বোধনের পর একমাস পেরোলেও মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কাউকেই দেয়া হয়নি। বিশাল বাজেটের ফ্লাইওভারটির কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় এর দুপাশে ময়লা-আবর্জনা জমতে শুরু করেছে।

ফ্লাইওভারটির দক্ষিণ অংশ ডিএসসিসি ও উত্তর অংশ ডিএনসিসির এলাকায় পড়েছে। প্রথমে ফ্লাইওভারটি দক্ষিণ সিটিকেই বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে নিজ নিজ অংশ দুই সিটিকেই দিতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও এলজিইডির তত্ত¦াবধায়ক প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার পাল। গত ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নকশা অনুমোদনের পর থেকেই নানা ত্রুটি দেখা দেয়। ট্রাফিক সিগন্যাল, বাম দিকে স্টিয়ারিং, উঠা-নামার র‌্যাম্প জটিলতাসহ নামার লুপে যানজট লেগেই থাকছে। যানজট নিরসনে এটি কতটা ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে সন্দিহান নগরবাসী। ফ্লাইওভারটি হস্তান্তরে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না পেলেও এর দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বলেছেন, যেহেতু এটি সিটির ভিতরে। তাই দায়িত্ব তো নিতেই হবে। এখনো মিডিয়ান, পার্কিং ও ট্রাফিক সিগন্যালের কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ হলেই আমরা বুঝে নেব।

এদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গনি বলেন, ফ্লাইওবারের দায়িত্ব আমরা কেন নিব। এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাগজপত্র না দেখে কিছুই বলতে পারবো না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফ্লাইওভারটি চালু হওয়ার পরও যানজট দূর হয়নি। আগে শুধু নিচে যানজট হতো। এখন উপর-নিচ জুড়েই যানজট লেগেই থাকছে। এর দুপাশ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গাড়ি চলাচলের জায়গাটুকু ছাড়া দুই পাশের বাকি অংশে চিপস ও বিস্কুটের প্যাকেট, পলিথিন, কলার খোসাসহ ধুলাবালিতে একাকার হয়ে আছে।

তিন তলাবিশিষ্ট চার লেনের ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার। রিক্টার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ১২১৯ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সম্পাদনা : আহমেদ রাজু