‘যুক্তফ্রন্ট’ কি রাজনীতিতে নতুন কিছু যুক্ত করতে পারবে!

গোলাম মাওলা রনি :‘যুক্তফ্রন্ট’ জোট মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠন করা হয়েছে। বিগত নির্বাচনে এই জোটের কেউ অংশগ্রহণ করেনি। তারা হয়তো এই মুহূর্তে ভাবছেÑ এই জোটের মাধ্যমে তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এই জোট আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেই মনে হয় আমার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দল শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বর্জন করেছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে একমাত্র বিএনপিই সরাসরি বলেনি, তারা নির্বাচনে আসবে কি, আসবে না। এ ছাড়া সব রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি, কথাবার্তা, হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে তারা শেখ হাসিনার অধীনে যে নির্বাচনে হবে, সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। ফলে গত নির্বাচনে যে একটা অভিযোগ উঠেছিল বিনা ভোটে নির্বাচন হয়েছে, এই তকমাটা এবার আর থাকবে না। বিএনপি যদি একাই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে সেটা বিএনপির রাজীনিতিতে কাল হয়ে দাঁড়াবে।

এই যে জোটটি গঠন করা হলো, তারা যে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে এই ম্যাসেজটা যখন বিএনপির কাছে চলে গেল তখন বিএনপির জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা একটা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় তারা যদি নির্বাচনকে বয়কট করে তাহলে সেটা তাদের জন্য বিরাট সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সব রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তারা আবারও বড় একটা ভুল করবে। এই যুক্তফ্রন্ট বিএনপির জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার একটা বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে বলে আমার মনে হয়। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যাবে, নাকি বিএনপি জোটে যাবে এই জায়গাটা তারা এখনো পর্যন্ত খোলাসা করেনি। ফলে আগামী নির্বাচনের আগে যে মাঠ গরম হবে, নির্বাচনী ডামাঢোল হবে সেখানে এই জোট একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। কারণ এদের ভোটের সংখ্যা তুলনামূলতকভাবে বেশি না হলেও এদের যে লোকজন আছে তারা দেশের কিংবদন্তি। ফলে এই চারজন লোকের অধীনে যে জোট গঠিত হয়েছে তারা যদি আওয়ামী লীগ জোটে যোগ দেয় তাহলে সরকারের জন্য একটা ইতিবাচক দিক হবে। বিএনপির জোটে গেলে তাদের তা বিরাট সফলতা বয়ে আনবে। ভোটের রাজনীতিতে যাই হোক না কেন জোট হিসেবে তারা যে দলের সঙ্গে যোগ দিবে সেখানে তারা বিরাট একটা ভ্যালু সৃষ্টি করবে।

এই জোট দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে না। যাবে বলেও মনে হয় না। তারা এই বড় দুটো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য করবে। ঐক্য করার জন্য নিজেদের যতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারা যায় সেই চেষ্টাই করছে। কিন্তু তারা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে তা তাদের প্ল্যানে আছে বলে মনে হচ্ছে। তারা এখন যেকোনো দলের সঙ্গে সরাসরি জোটের অংশীদার হওয়ার জন্য চেষ্টা করবে। সেটা করবে তাদের সুবিধানুযায়ী, সুবিধা হয় তা মাথায় রেখে।

জোট রাজনীতিতে এটা একটা ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলেই মনে হচ্ছে। এই জোট যদি সরকারের সঙ্গে যোগ দেয় তাহলে বিএনপি তখন বাধ্য হবে নির্বাচন করতে। এই জোট যদি আবার বিএনপির সঙ্গে যোগ দেয় তাহলে বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করতে ভয় পাবে না।
পরিচিতি : কলামিস্ট ও সাবেক সাংসদ
মতামতগ্রহণ : সাগর গনি
সম্পাদনা: আশিক রহমান