ঢাকার উত্তরের মেয়র প্রার্থী হতে আ.লীগ-বিএনপিতে আগ্রহী অনেকেই

উম্মুল ওয়ারা সুইটি : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান অনেকেই। জনপ্রিয় মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর থেকেই প্রার্থীরা তাদের ইচ্ছার বিষয়টি নানাভাবে জানান দিচ্ছেন। আর আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও এই নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। একইভাবে বিএনপিও এই নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দল থেকে পরিচ্ছন্ন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে গত কয়েকদিনে আগ্রহীর সংখ্যা বেড়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জয়ী হতে পারবেন এমন কয়েকজনকে নিয়ে দল চিন্তা করছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে দল এই নির্বাচনকে সেমিফাইনাল হিসেবে দেখছে। আওয়ামী লীগের সমর্থক কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা নন, এমন প্রার্থীও আসতে পারে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে আছেন এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ও হামীম গ্রুপের মালিক এ কে আজাদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এইচবিএম ইকবাল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজা।
বিএনপির পক্ষ থেকে গতবারের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, গুলশান এলাকার বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম ও বিএনপি জোটের শরিক বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম শোনা যাচ্ছে।

প্রয়াত আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক বলেছেন, আনিসের চলে যাওয়ায় আমরা ভীষণভাবে শোকাহত। নির্বাচনের বিষয়ে একদমই ভাবছি না। আমরা সবার দোয়া চাই। কেউ যদি এসব প্রচার-প্রচারণা করে সেটি তাদের ব্যাপার।

এফবিসিসিআই-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এ কে আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি তাকে মনোনয়ন দেন, তাহলে তিনি অবশ্যই নির্বাচন করবেন। তিনি মেয়র হলে গ্রীন ঢাকা করবেন। তাছাড়া প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করবেন। তিনি জানান, ঢাকাকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তার নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। মেয়র হলে তিনি সেটির বাস্তবায়ন করবেন।

সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে তিনি অবশ্যই নির্বাচন করবেন। ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়তে তার পরিকল্পনা রয়েছে বলে কবরী জানান। গোলাম রেজা বলেন, তিনি মেয়র হিসেবে মনোনয়ন পেলে আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবেন। তিনি মনে করেন, মেয়র হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিলে তিনি জয়ী হতে পারবেন।

ব্যারিস্টার পার্থ গতকাল বলেন, বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করলে একরকম হিসাব। আবার জোটগত হলে ভিন্ন চিন্তা। জোটগত হলে এবং জোট চাইলে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। ডিএনসিসির সম্ভাব্য উপ-নির্বাচন সম্পর্কে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী ও গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকীর নামটিও আলোচনায় রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে গত ৪ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই পদ শূন্য ঘোষণা করায় ১ ডিসেম্বর থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের একরকম বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তবে মেয়রের নির্বাচন করতে গেলে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন কি-না এবং সেখানে কাউন্সিলর পদে ভোট হবে কি-না এ বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।