৩০ হাজার রোহিঙ্গা নারী গর্ভবতী

ডেস্ক রিপোর্ট : মিয়ানমারে সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শুরু হয় গত ২৫ আগস্ট থেকে। এ সময়ের মধ্যে শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মহিলা বর্তমানে গর্ভবতী। এদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে খোঁজ নিয়ে এবং স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মহিলা গর্ভবতী থাকার বিষয়টি ধারণা করছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৫৫ জনকে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। এসব গর্ভবতী মায়েরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছেন। তা ছাড়া এই সময়ের মধ্যে (২৫ আগস্ট থেকে) বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে এক হাজার ৬৭টি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। অন্যদিকে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রসব-পূর্ববর্তী সেবার আওতায় আছে ২ হাজার ৪৯৯ জন এবং প্রসব পরবর্তী সেবার (পূর্বের রোহিঙ্গাসহ) আওতায় আছেন তিন হাজার ১২০ জন। কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ‘২৫ আগস্টের পর থেকে এক হাজার ৬৭ জন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই আমাদের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ডেলিভারি হয়েছে। তা ছাড়া শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে নানাভাবে খোঁজ নিয়ে আরও প্রায় ৩০ হাজার মহিলা গর্ভবতী আছে বলে খবর নিয়েছি।

তবে এখন আমাদের পক্ষ থেকে সন্তানসম্ভবা মায়েদের চিকিত্সায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে তাদের যেসব স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া দরকার তা তারা পাচ্ছেন। ’ জানা যায়, বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করা রোহিঙ্গা শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফে ৪১টি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে তাদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ইপিআই কর্মসূচি। এতে পোলিও টিকা, এমআর (হাম-রুবেলা) ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪১টি মেডিকেল ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন বয়সী ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৬ জনকে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘এম আর ভ্যাকসিন’ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৫০ জনকে। ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (ওপিভি) দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৮ জনকে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৬ জনকে। কলেরার টিকা প্রথম রাউন্ডে দেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৪৮৭ জনকে এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৫৮ জনকে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িসহ তিন উপজেলায় মোট সাতটি জোনে ভাগ করে রোহিঙ্গাদের রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ১ এবং ২ নম্বর ক্যাম্পে (বালুখালী) আছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। ময়নারঘোনা ক্যাম্পে (শফিউল্লাহর কাটা) আছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৪৫ জন। উখিয়ার হাকিমপাড়া এবং সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় আছে ২৯ হাজার ১৩৮ জন। টেকনাফ উপজেলার চাকমারকুল (কেরণতলী), উনচিংপ্রাং, লেদা, শ্যামলারপুর, নয়াপাড়া রেজিস্ট্রেট ক্যাম্পে সর্বমোট আছে ৬৫ হাজার ৯৯৫ জন। তা ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার তিনটি জোন- সাতমারা, বড়চন খোলা ও বাহির মাঠ ক্যাম্পে আছে ৯ হাজার ৫৭৭ জন।

গত ২৫ আগস্ট থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে দেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৩৭ হাজার ১৭০ জন। তা ছাড়া ২৫ আগস্টের পূর্বে দেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ৬০ জন। নতুন-পুরনো মিলে (৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত) বর্তমানে দেশে রোহিঙ্গা অবস্থানের সংখ্যা ৮ লাখ ৪১ হাজার ২৩০ জন। তবে এখনো রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন