নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কার্যকর

ডেস্ক রিপোর্ট : বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ঘোষণা ছিল ডিসেম্বর থেকে বাড়বে এ দাম। অর্থাৎ গ্রাহকরা নতুন বছর অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে বর্ধিত বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করবে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো নভেম্বর থেকেই গ্রাহকদের বিল দেওয়া শুরু করছে। অর্থাৎ গ্রাহকদের ডিসেম্বরের বিলের সঙ্গেই বিদ্যুতের বর্ধিত দাম পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন একাধিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকদের নভেম্বরের ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিলের সঙ্গে বর্ধিত রেটে বিল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা ডিসেম্বরে যে বিল পরিশোধ করবে সেখানেই বাড়তি বিল পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু বিইআরসির নির্দেশ ছিল ডিসেম্বরের বর্ধিত বিল জানুয়ারি থেকে পরিশোধ করার।

এ বিষয়ে বিইআরইসির এক কর্মকর্তা বলেন, ডিসেম্বরের বর্ধিত বিল জানুয়ারি থেকে পরিশোধ করবে কমিশনের এমন ঘোষণাই ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিলিং সাইকেলের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নভেম্বর থেকেই গ্রাহকদের বর্ধিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা বলেন তবে যাদের প্রি-পেইড মিটার তারা কেবল ডিসেম্বরের বর্ধিত বিলই পরিশোধ করতে পারবে। তাদের নভেম্বরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ওপর বর্ধিত বিল পরিশোধ করতে হবে না।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, বিইআরসির সঙ্গে কথা বলে আমরা বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছি। বিল ডিসেম্বর-১৭ অর্থাৎ ডিসেম্বরের বিলের সঙ্গেই গ্রাহকদের বাড়তি বিল পরিশোধ করতে হবে। সেই হিসেবে নভেম্বরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল বাড়তি রেটে গ্রাহকদের সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে শুধু পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডই নয়, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) গ্রাহকদের নভেম্বরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ওপর বর্ধিত বিল সরবরাহ করছে। ডিপিডিসির এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের বিলিং সাইকেল এক মাসের ৬ তারিখ থেকে অন্য মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত। ফলে নভেম্বরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ওপর বর্ধিত বিল সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিইআরসির সদস্য (বিদ্যুৎ) মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিলিং সাইকেল আলাদা হতে পারে। ফলে বিলে মাস ডিসেম্বর উল্লেখ করেছি। সুনির্দিষ্টভাবে ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে বলা হয়নি। তিনি বলেন কোনো কোনো বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির বিলিং সাইকেল অর্থাৎ গ্রাহকদের মিটার রিডিং নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে ওইসব গ্রাহকের বিল নভেম্বর থেকেই বাড়বে।

বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম বলেন, বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরের ১ তারিখের আগে কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে বর্ধিত বিল আদায় করা যাবে না। কোনো ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে যদি সেটি করা হয় তবে তা হবে আইনের পরিপন্থী। বিইআরসির আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটা হতেই পারে না। বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী স্পষ্ট ডিসেম্বরের এক তারিখ থেকে দাম বাড়বে। গ্রাহক সেটি জানুয়ারি মাসে পরিশোধ করবেন।

উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ৩৫ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়, যা গড়ে পাঁচ দশমিক তিন পয়সা দাঁড়ায়। ঘোষণা ছিল বিল মাস ২০১৭ ডিসেম্বর থেকে বর্ধিত এই দর কার্যকর হবে। আগামী জানুয়ারি থেকেই সব শ্রেণির গ্রাহককে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বর্ধিত বিল দিতে হবে।

বিইআরসি এক সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের বর্ধিত নতুন দাম ঘোষণা করে। বর্ধিত দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা আয় করবে। এবারের দাম বৃদ্ধি থেকে ছাড় পায়নি কৃষি এবং তৃণমূলের লাইফ লাইনে থাকা গ্রাহকও। বর্তমান সরকারের গত ৯ বছরে বিদ্যুতের দাম আটবার বেড়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় গড়ে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ । এর আগে বিগত মহাজোট সরকারের আমলে ছয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমাদের সময়