ডিবি সদস্যদের ভুয়া ভেবে ধাওয়া না পরিকল্পিত হামলা?

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর মৌচাকে এক ব্যবসায়ীকে আটক করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ধাওয়া খেয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কয়েকজন সদস্য। তবে পুলিশের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ীরা ডিবি পুলিশের ওপর হামলা করেছে।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে মৌচাকের ফরচুন শপিং মলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ময়নুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

মৌচাক এলাকার ব্যবসায়ী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে ৬-৭ জন লোক ফরচুন শপিং মলে আসেন। তারা শপিং মলের ‘ঐশ্বরিয়া শাড়ি বিতান’-এর মালিক মাজরুল ইসলাম ইরানকে আটক করেন। এসময় ওই শপিং মলের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন। তারা মাজরুল ইসলামকে আটকের কারণ সম্পর্কেও কিছুই বলেননি।

সূত্র আরও জানায়, পরে মাজরুল ইসলামকে মারধর করতে করতে নিয়ে যাওয়ার সময় ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারীদের ঘিরে ধরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তারাও ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারীদের কাছে তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে ও মাজরুল ইসলামকে আটকের কারণ জানতে চায়। পরিচয়পত্র না দেখানোয় ও মাজরুল ইসলামকে আটকের কারণ না বলায় সাধারণ মানুষ তাদের গাড়ি আটক করে । এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে রমনা থানার ওসি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবসায়ী মাজরুল ইসলাম ও ডিবি পুলিশ সদস্যদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এসময় ডিবি’র সদস্যদের ধাওয়া দেয় স্থানীয় সাধারণ মানুষেরা। পুলিশও সাধারণ মানুষকে ধাওয়া দেয়।

ফরচুন শপিং মলের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘মাজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা আছে কিনা, ওই দলটির কাছে তা জানতে প্রশ্ন করি। তারা আমাদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মাজরুল ইসলামকে ধরে নিয়ে যান। পরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাদের আটকে রাখে।’

একই সমিতির অর্থ সম্পাদক ফেরদৌস খান বলেন, ‘দলটিতে ৬-৭ জন ছিল। তাদের পরনে ডিবি পুলিশের পোশাক, ওয়াকিটকি বা অস্ত্র কিছুই ছিল না। তাদের এ অবস্থায় দেখে সাধারণ মানুষের সন্দেহ হয় এবং ওই ঘটনা ঘটে।’

রাত ১১টার দিকে রমনা থানার ওসি মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘একটি ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া উইংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।’ এরও আগে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে কথা বলছি।’

রমনা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মুহিবুল্লা বলেন, ‘মাজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা রয়েছে। এ নিয়ে কথা বলতে আগেও একাধিকবার তার প্রতিষ্ঠানে যায় ডিবি পুলিশ। শনিবার পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ীরা ডিবি পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। এতে ডিবি পুলিশের সদস্য ছাড়াও থানা পুলিশের সদস্যরা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নয়াটোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজান, সিদ্ধেশ্বরী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জুলফিকার বেশি আঘাত পেয়েছেন। মিজানকে স্কয়ার হাসপাতালে, বাকিদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ’

ডিবি দক্ষিণের উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘এ ধরনের একটি ঘটনার কথা শুনেছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার বলেন, ‘আইসিটি আইনের এ মামলা দেখভাল করছিল ডিবি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তাদেরই একটি দল শনিবার (৯ ডিসেম্বর) মাজরুল ইসলামকে আটকের জন্য গিয়েছিল।’