হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোচ ছাড়াই খেলবে বাংলাদেশ?

ডেস্ক রিপোর্ট : ভাগ্যের লিখন বুঝি একেই বলে! কদিন আগেই বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব ছেড়েছেন। মাত্র আগের দিনই চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যোগ দিয়েছেন নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ হিসেবে। আর তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্টই বাংলাদেশে! শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সামনের মাসে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। যে দেশের কোচ হয়েই বিশ্ব ক্রিকেটে তার এতো নাম ডাক। তা না হলে বছর তিনেক আগে হাথুরুকে এমন ধীমান কোচ হিসেবে কে চিনত? আর যে দেশ তাকে আন্তর্জাতিক বিশ্বমানের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে সেই দেশের এখন কোনো কোচই নেই! ভালো কোচ পেতে বিসিবিও ভুগছে। জানিয়ারিতে সিরিজ। তার আগে দ্রুত ভালো কোচ পাওয়া মুশকিল। সেটা স্বীকার করেই নিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিন সংস্করণের তিন অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলে জানালেন, কোচ নিয়োগে তাড়াহুড়ো নয়, প্রয়োজনে হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোচ ছাড়াই খেলবে টাইগাররা।

স্থানীয় কোচ সারোয়ার ইমরানের অধীনেই অভিষেক টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। এরপর থেকেই দলটির দায়িত্বে বিদেশি কোচেরা। মোট ১০ জন নামীদামী কোচ এসেছেন-গিয়েছেন। এক কোচের বিদায়ের পর অন্য কোচের নিয়োগের মাঝে বিরতি পড়লেও সেখানে ছিলেন অন্তর্বর্তী কেউ না কেউ। কোচহীন ছিলো না কখনোই। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হয়তো কোচ ছাড়াই নামতে পারেন টাইগাররা। শনিবার হোটেল রেডিসনে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও টি-টুয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন বিসিবি সভাপতি। সেখানে তিন অধিনায়কই জানিয়েছেন কোচ ছাড়াও খেলতে আত্মবিশ্বাসী তারা।

‘আমাদের যে তিন অধিনায়ক আছে ওদেরকে আমরা ডেকেছিলাম আলোচনার জন্য। সামনে আমদের একটা সিরিজ আছে। এবং হাথুরুসিংহে আমাদের সঙ্গে নেই, আমাদের হেড কোচ নেই। সেজন্য অন্তবর্তীকালীন সময়ে কি করা যাবে? এ সিরিজে যদি কোচ না আনি তাহলে কি হবে? ওদেরকে বলেছি এখন থেকেই যেন পরিকল্পনাটা করে ফেলে যে সামনের সিরিজটি আমরা কিভাবে খেলব। সবার আগে জানতে চেয়েছি যে ওরা আত্মবিশ্বাসী কি না। ওরা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে ওরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে সামনের সিরিজটা ওরা নিজেরাই করতে পারবে। এজন্য কার কি চাওয়া কি পরিকল্পনা কিভাবে কাজ করলে কবে থেকে ক্যাম্প শুরু হবে এ জিনিসগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।’

শুধু অধিনায়করা নন, দলের বাকি কোচিং স্টাফ যারা আছেন তারাও তাড়াহুড়ো করে কোচ না নেওয়ার পক্ষেই। সেটা জানিয়ে পাপন বলেছেন, ‘আপাতত যে দলটা আছে, রিচার্ড হ্যালসাল, পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন, স্পিন বোলিং কোচ সুনীল যোশী ছিল, আর ফাস্ট বোলিংয়ে ছিল কোর্টনি ওয়ালশ। উনি আসবেন। তিনজন অধিনায়কসহ সবাইকে নিয়ে বসছিলাম যে একসাথে মোকাবেলা করতে পারবে কিনা। তারা আত্মবিশ্বাস নিয়ে জানিয়েছে যে তারা তা সামলে নিতে পারবে। এবং তাদের কোনো তাড়া নেই সিরিজের আগে তাড়াহুড়ো করে কোচ নেওয়ার। আমরা আস্তে ধীরে সেরা সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।’

তবে খুব শিগগির কোচ নিয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি পাপন। সব মিলে গেলে দুই একদিনের মধ্যেই দেখা যেতে পারে নতুন কাউকে। তবে ধীরে চলে নীতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই জানান বোর্ড প্রধান, ‘এই না যে আমরা কোচ নিচ্ছি না। কাল-পরশুও আমরা কোচ নিতে পারি। এটা ভিন্ন ইস্যু। আমি সবাইকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বললাম। যদি কোনো কারণে কোচ না পাই তাহলে…তখন এসে কি পরিকল্পনা করবে। আমরা যেন সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারি এবং উনারা যেন সব পরিকল্পনা করতে পারে এটা নিয়ে কথা হয়েছে।’

এর আগে জানা গিয়েছিল নতুন কোচ নিয়োগ না নেওয়া পর্যন্ত খালেদ মাহমুদ সুজন হতে পারেন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ। সে গুঞ্জনও উড়িয়ে দেননি পাপন। রোববার বিসিবির সভাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি, ‘কালকে আমাদের বোর্ড মিটিং আছে। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিব অন্তবর্তীকালীন অবস্থায় কাউকে আমরা এখান থেকে কাউকে হেড কোচ করবো কিনা।’

বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকা কোচদের মধ্যে সবচেয়ে সফলই ছিলেন হাথুরুসিংহে। অনেক বিতর্কের মুখেও অবশ্য পড়তে হয়েছে তার। সেটা বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে। সদ্যই বাংলাদেশের দায়িত্ব ছাড়ায় এ দলটার নাড়িনক্ষত্র হাথুরুসিংহের খুব ভালো জানা। আর এটাই ভয়ের কারণ। সেই দলের বিপক্ষে কোচহীন বাংলাদেশ দলকে খেলতে হলে শেষ পর্যন্ত? কি হয় কে জানে! এই ভাবনাটাই ঘুরপাক খেতে বাধ্য মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে দেশের সব ক্রিকেট আড্ডায়। পরিবর্তন