ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত
জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে বাধ্য হবে

তরিকুল ইসলাম: জেরুজালেম ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা প্রত্যাহারে দেশটিবাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের হেড অব মিশন ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান। জেরুজালেমকে নিয়ে কোনো আপস করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীর যত শক্তিধর দেশই হোক না কেন, ফিলিস্তিনের জনগণ এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। জেরুজালেম নিয়ে সামান্যতম আপসের কোনো সুযোগ নেই। এটা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর পবিত্র জায়গা, এখানে শুধু ফিলিস্তিনিদের আবেগ-অনুভূতির বিষয় নয়, সমগ্র মুসলমানদের বিষয়। তাই এই বিষয়ে ফিলিস্তিন চাইলেও একা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।

শনিবার রাজধানীর বারিধারাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসে এই প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দেশটির এ অবস্থান তুলে ধরেন ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান। তার মতে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের একজন শক্তিহীন প্রেসিডেন্ট। সে নিজেই নিজের দেশ ও দেশের বাইরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তিনি বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে হঠাৎ করেই জেরুজালেম ইস্যুকে উসকে দিয়েছে। যেন তার বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অভিযোগ চাপা পড়ে যায়। ট্রাম্প আগুনে হাত দিয়েছেন। এই আগুনে পুড়ে তার পরিকল্পনা ছাই হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী নিন্দা ঝড় উঠেছে। ফিলিস্তিনের জনগণ ইস্পাত কঠিন ঐক্যে দাড়িয়ে গেছে। আমরা বিক্ষোভ করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণ-আন্দোলন চলবে। আজকের জেরুজালেমের যে পরিস্থিতি তা ১৫’শ বছর আগে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণনা করে রেখেছেন। তাই আমরা অন্তর থেকে বিশ্বাস করি ফিলিস্তিনের মানুষ অতি শিগগিরই তাদের স্বাধীন দেশে মুক্ত হাওয়া গ্রহণ করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে রামাদান বলেন, জেরুজালেম ইস্যুতে আমরা কোনো মুসলিম দেশ ও জনগণের কাছে আলাদাভাবে প্রত্যাশা করি না। জেরুজালেম ফিলিস্তিন জনগণের একার শহর নয়। পুরো মুসলিম বিশ্বের অধিকার আছে এই জায়গায়। তাই এই শহর নিয়ে সারা বিশ্বের মুসলমান ভাই-বোনেরা নিজে থেকেই দায়িত্ব নিয়ে নিজেরদের অবস্থান নেবেন।

বাংলাদেশ বরাবরই ফিলিস্তিন জনগণের সঙ্গে নিজেদের একাত্মতা ঘোষণার মাধ্যমে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে আমরা খুশি। সামনে ওআইসি দেশগুলোর বৈঠক রয়েছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। যা অন্য দেশগুলোও অনুসরণ করবে। বাংলাদেশের অনেক তরুণ ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনে তাদের জান ও মাল কোরবানি করেছেন। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে ফিলিস্তিনের রক্তের সম্পর্ক। বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দুই দেশ রাশিয়া ও চীনের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত পোষণ করে রামাদান বলেন, তারা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে জেরুজালেম ইস্যুতে সাড়া দিয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে এই অবস্থান বজায় রাখবেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ সকল মুসলিম দেশ ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার আছে।

তবে, কয়েকটি মুসলিম দেশের নিজেদের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ আছে। এসব সমস্যা সমাধান করতে পারলে আমারা সামনে এগুতে পারব সহজে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, গত ছয় ডিসেম্বর ফিলিস্তিনের ভূখ- জেরুজালেমকে দখলদার ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে বিশ^ব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছে। নিরাপত্তা পরিষদের ডাকা বৈঠকে ১৫টি দেশের মধ্যে ১৪টি দেশই (যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত) ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ও ফিলিস্তিনের পক্ষে মত দিয়েছে।