একজন জাহান্নামীর দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের ন্যায়

সাইদুর রহমান : এই পার্থিব জীবনে যারা মহান আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি ইমান এবং সর্বশেষ নবী সা. এর প্রতি ইমান না নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে তারাই হবে চির হতভাগা। তাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম।

জাহান্নামে যাওয়ার পর তাদের অবস্থা কী হবে ? তাদের অবস্থার কথা কল্পনা করা যাবে না এই পৃথিবীতে বসে। জাহান্নামের ঢুকার পর তাদের শরীরের অবয়ব ও অঙ্গপ্রতঙ্গের আকৃতি সর্ম্পকে হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে এই জাহান্নাম থেকে চিরমুক্তি দান করুন আমিন।

হাদীসে এসেছে, প্রতিটি জাহান্নামীর শুধুমাত্র দাঁতের আকৃতি হবে উহুদ পাহাড়ের ন্যায়। দাঁতই যদি এত বিশাল বড় হয় তাহলে তার শরীরের আকৃতি কেমন ভয়নক বিশালাকৃতির হবে। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কাফিরদের দাঁত উহুদ পাহাড়ের সমতুল্য হবে এবং তাদের চামড়ার পুরত্ব হবে তিন দিনের (পথের দূরত্ব পর্যন্ত)। (মুসলিম হাদীস নং ৬৯২২)

আরেক হাদীসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, জাহান্নামে কাফিরদের দুই কাঁধের মধ্যখানে দ্রতগামী আরোহী ব্যক্তির তিন দিনের সফরের পথ হবে। তবে ওয়াকিঈ فِي النَّارِ কথাটি উল্লেখ করেননি। (মুসলিম হাদীস নং ৬৯২৩)

অন্য হাদীসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি বনী কা’বের সদস্য (পিতৃতুল্য) আমর ইবনু লুহায় ইবনু কামআ ইবনু খিনদাফকে জাহান্নামের মধ্যে দেখেছি। (পেট হতে তার সব) নাড়ী-ভুড়ি (বেরিয়ে পড়ছে, আর সে সেগুলো) টেনে নিয়ে হাঁটছে। (মুসলিম হাদীস নং ৬৯২৮)

হাদীসে এসেছে, আমর নাকিদ, হাসান আল-হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) সাঈদ ইবনুল মূসায়্যিব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “বাহীরা” তথা সে উষ্ট্রী, যা কোন দেবতার নামে মানত করে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়া হত। দেবতার সন্তুষ্টির জন্য তার দুধ খাওয়া নিষিদ্ধ হত। তাকে মানুষ দোহন করে না। সাইবা সেই উষ্ট্রী, যা কাফিররা তাদের দেবতার নামে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিত। এর পিঠে কোন বোঝা বহন করা হতো না। ইবনু মূসায়্যিব (রাঃ) বলেছেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জাহান্নামের মধ্যে আমর ইবনু আমির খুযাঈকে দেখেছি, সে তার নাড়ী-ভুড়ি টেনে নিয়ে হাটছে। দেবদেবীর নামে সে-ই সর্বপ্রথম উট ছেড়ে ছিল। (মুসলিম হাদীস নং ৬৯২৯)