ইসলামে দেখা সাক্ষাতের আদব

হুমায়ুন আইয়ুব : ইসলাম মানুষকে শিখিয়েছে ভদ্রতা ও শিষ্টাচার। উত্তম জীবন ব্যবস্থা গঠনে ইসলামকে পরিপূর্ণ অনুসরণ অপরিহার্য। আচার ব্যবহারে যেন কেউ কারও কাছ থেকে কষ্ট না পায় এমন শিক্ষাও দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম বলে কারও সঙ্গে সাক্ষাতের প্রয়োজন হলে কিছু নিয়ম কানন মেনে দেখা করতে হবে। যেমন, এক. কারও সাক্ষাতে গেলে প্রথমে সালাম দেবে। সালাম পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও হৃদ্যতা সৃষ্টি করে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা ইমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ইমানদার হতে পারবে না পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি না হলে। আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয়ের কথা বলব, যা করলে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও। ’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৫৪) দুই. পরস্পর সালাম বিনিময়ের পর মোসাফাহা (হাত মেলানো) করবে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে দুজন মুসলিম পরস্পর মিলিত হয়, তারপর তারা মোসাফাহা করে, তারা (সেই স্থান থেকে) পৃথক হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২১২; তিরমিজি, হাদিস : ২৭২৭) তিন. বেগানা ও পরনারী-পরপুরুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য উত্তম। ’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৩০) চার. আগত ব্যক্তির সম্মানে দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানানো। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) সূত্রে বর্ণিত, মদিনার বনু কুরাইজার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)-কে ডেকে পাঠান। সাদ (রা.) একটি গাধায় চড়ে আসেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, ‘তোমরা তোমাদের নেতা সাদের দিকে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাও। ’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭৬৮) পাঁচ. আগত ব্যক্তির জন্য মাথা নত করা বা সিজদাবনত হওয়া যাবে না। এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করে, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ যখন তার ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তখন কি মস্তক অবনত করবে? মহানবী (সা.) বললেন, ‘না, কিন্তু মোসাফাহা করবে। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৭০২) ছয়. হাসিমুখে অন্যের সঙ্গে মিলিত হওয়া। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কোনো ভালো কাজকে ছোট মনে করবে না, যদিও তা অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাতের ব্যাপারেই হোক না কেন। ’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২৬২৬) সাত. সাক্ষাতের আগে অনুমতি প্রার্থনা করবে। আট. সাক্ষাতের সময় কথা বলার আদবের প্রতিও লক্ষ রাখবে। নয়. কারও নিকট সাক্ষাতের জন্য এমন সময় যাবে না যখন গেলে তার ঘুম, আমল বা কাজে ব্যাঘাত ঘটে। সূত্র : আহকামে জিন্দেগী