মুখে মেকআপ হাত পা অবস দেহ ফুলে গেছে এটাই উন্নয়নের গণতন্ত্র : মাহমুদুর রহমান মান্না


খন্দকার আলমগীর হোসাইন : স্বাধীনতার এতোগুলো বছরে আমাদের দেশে রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি সব কিছু দেখে এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মনে হয়, বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা আছে। সেই সম্ভাবনা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। এটার প্রধান কারণ হচ্ছে, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন ও অপরাজনীতির চর্চা হয়েছে। দুটো জোট বেশির ভাগ সময় দেশ শাসন করেছে। এটা করতে করতে পরিস্থিতি এমন হয়েছে, তারা ক্ষমতার লড়াইয়ে নেমে পড়েছে। ফলে দেশে রাজনীতি বিপদগ্রস্ত হয়েছে। জনগণ নিরাপত্তাহীন। স্বাধীনতা সর্বোভৌমত্ব হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে আমরা মনে করেছি, দি¦-দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে আরেকটি বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা উচিত। সেই চেষ্টাই ছিল আমাদের। পাঁচ-সাত বছর লাগাতার চেষ্টা হয়েছে। আমরা যারা এই যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছি, অনেকজন ছিলেন এই প্রক্রিয়ার সাথে। অনেকে হয় তো এখন আসেননি, ভবিষ্যতে আসবেন। দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সাথে আলাপকালে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সবাই মিলে অনেকগুলো বৈঠক করেছি, দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। বসতে সবতে একটা কমন যায়গায় এসেছি। কী কমন বিষয়ে একমত হয়েছি যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা জানাইনি। আমরা একটা মানবিক রাষ্ট্র চাই। যার মূল লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণ। বলতে পারেন একটা কল্যাণ রাষ্ট্র চাই। বুরো অব স্ট্যাটিস এবং সিপিডি গত পরশুদিন যে সেমিনার হয়েছে তাতে দেখা গেছে, দেশে পচ- রকম বৈশম্য রয়েছে। এমন একটা কথা চালু রয়েছে, উন্নয়নের গণতন্ত্র। উন্নয়নটাই মূল। গণতন্ত্রটা কোনো বিষয় না। মুখে মেকআপ হাত পা অবস দেহ ফুলে গেছে এমন উন্নয়ন হচ্ছে। পলিস করে করে সরকার উন্নয়ন বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।
তুখোড় সাবেক এই ছাত্রনেতা আরও বলেন, ঢাকা মহানগরে কয়েকটা ফ্লাইওভার নির্মাণ করে তারা দেখাতে চাচ্ছে, আমরা উন্নয়ন করে ফেলেছি। কিংবা ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেন, পদ্মা ব্রিজ এগুলো দিয়ে সরকার বুঝাচ্ছে অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে। আজকের পত্রিকায়ও দেখবেন বিশেষজ্ঞ বলছেন, মহানগরে ফ্লাইওভার করার কোনো যুক্তি নেই। দুর্নীতি এখন সীমাহীন। ফ্লাইওভার, চার লেন এগুলো নির্মাণে চীনে খরচ হয় ৯০ থেকে ১৩০ কোটি, মালয়েশিয়া হয় ৬০ থেকে ১৩০ কোটি, পাকিস্তানে ৬০ থেকে ১১০ কোটি, বাংলাদেশে এটা ৯০ থেকে ১৫০ কোটি হয়। এই পদ্মা ব্রিজ যখন শুরু হয়েছে তখন প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। এখন এটা ৪০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি আছে, ৫০ হাজার কোটির আগে শেষ হবে না। বাড়ম্বর করা হচ্ছে আমরা উন্নয়ন করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছি কিন্তু এর মধ্যদিয়ে দেশের মধ্যে লুটপাট চলছে। ঋণের টাকার ভার শেষ পর্যন্ত আসবে সব মানুষের ঘাড়ে। এগুলো মানুষকে জানানো উচিত।
তিনি বলেন, আজকে যে শিশু জন্মগ্রহণ করবে তার মাথাপিছু ঋণ ৪০ হাজার টাকার মতো। ঠিক এই মূহর্তে বাজেটের পরে যেটা সিপিডি হিসাব করে বলছে, ৪৬ হাজার ১৭৭ টাকা। দেশে বর্তমানে ঋণ আছে ৬৫ লাখ ৯ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। আগামী অর্থ বছরে এই ঋণ হবে ৭৬ লাখ ৭ হাজার ১৩০ টাকা। অর্থাৎ উন্নয়নের কথা যে বলা হচ্ছে, তা হচ্ছে উপরের লেভেলের ৫ শতাংশ লোকের। পুরো হরিলুটের একটা রাজত্ব চলছে দেশে।