নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হলেও তা স্থায়ী হয়নি: আয়েশা খানম

ফারমিনা তাসলিম : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেছেন, নারীদের লড়াই এখনো চলছে। নারীরা অনেক দূরে এগিয়ে গেছে সেটা সত্যি। তবে নারীর প্রতি মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি স্থায়ী পরিবর্তনে আরও জোর দিতে হবে।

আজ ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস। বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

উপমহাদেশের নারী মুক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত বেগম রোকেয়ার মূল লড়াই ছিল রক্ষণশীলদের মুসলিম সমাজের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা অনেক এগিয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় পরেও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে মুসলিম সমাজের মনোভাব পরিবর্তনে এখনো সে আন্দোলন করতে অব্যহত রাখতে হয়েছে। এর কারণ কী?

জবাবে আয়েশা খানম বলেন, ১৯০৫ সালে বেগম রোকেয়ার সময়কাল বা তারও আগে মুসলিম সমাজ অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল। বেগম রোকেয়ার পুরো লড়াই ছিল আপোষহীন। তৎকলীন সময়ে মুসলিম সমাজ ছিল কুসংস্কার, ধর্মান্ধ, কুকর্মতা এবং নারীকে হেয় করার। বেগম রোকেয়া বলেছেন, আমরা মানুষ, ভোগের সামগ্রী না। পুরুষের সমাজ এবং সমাজে নারী ও পুরুষ দুইটা অঙ্গের মতো। আমরা একবিংশ শতাব্দীতে নারী-পুরুষের সমতার কথা বলছি। বেগম রোকেয়া বলেছেন, আমরা যদি পড়িয়া থাকি তাহলে সমাজ অগ্রসর হবে কী করে?

বেগম রোকেয়া উন্নয়নের জন্য নারী ও পুরুষকে সমাজের দুইটি শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দুই শক্তিকে একত্র করে বাইরে কাজ করার কথা বলেছেন। তিনি মুসলিম রক্ষণশীল সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। বেগম রোকেয়াকে আজ যে কারণে স্মরণীয় সেই প্রেক্ষাপটে এখন বাংলাদেশে মুসলিম নারীরা শিক্ষার ব্যাপারে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত কতটা নিতে পারেন?

প্রশ্নের জবাবে আয়েশা খানম বলেন, বাংলাদেশের চিত্রে দ্বিরূপপূর্ণ অবস্থান। খুবই বিস্ময় যে সমাজের ভিতরে নারীর প্রতি যে সহিংসতা, নারীর যে ব্যক্তিস্বত্তা, নারীর যে স্বাধীনভাবে চলার গতিশীলতা, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার জায়গা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনেক নারীই নিতে পারছে। কিন্তু সেখানেও বাধা আছে। কিন্তু ব্যাপক গণনারী লড়াইয়ে, চিন্তা চেতনায় ধর্মের নামে নারীকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে নারীর ওপরে ফতোয়া জারি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের শিক্ষা, রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীদের অগ্রগতি হয়েছে বলে হয়ে থাকলেও দেখা যাচ্ছে একটা সময় গিয়ে আন্দোলন বেশি দূর এগোতে পারে না। যেমন সম্পদের ভাগাভাগির জায়গায় নারী এখনো বৈষম্যের শিকার। এ নিয়ে আন্দোলন হলে দেখা যায়, মুসলিম পরিবারগুলো আপত্তি তোলে ফলে নারীরা এগিয়ে যেতে পারে না। সেটার কারণ কী?

আয়েশা খানম বলেন, বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে বলা হয়েছে, নারী-পুরুষের সম অধিকার। কিন্তু আমরা জানি সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষেত্রে সেখানে কিন্তু সম অধিকার নেই। আমাদের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তায় বৈষম্য-ব্যবধান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হয়ে গেছে। এটা এতদিন থাকার প্রয়োজন ছিল না। সেজন্য আমাদের লড়াই এখনো চলছে। নারী অনেক দূরে এগিয়েছে সেটা সত্যি কথা। ব্যাপকভাবে সেটাকে স্থায়ী করা, ভবিষ্যতের জন্য সে জায়গায় মৌলিক পদক্ষেপের জায়গায় দৃষ্টিভঙ্গি, কেসংস্কৃতিতে, সমাজের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন করা সেখানে আমাদের আরো জোর দিতে হবে।

সূত্র – বিবিসি বাংলা