কুরআনে বাইতুল মোকাদ্দাসের গুরুত্ব

ওমর শাহ : ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ এবং প্রথম কেবলা ‘মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস’ প্রাচীন শহর জেরুজালেমে অবস্থিত। মহানবী সা. মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদুন্নবী ও মসজিদুল আকসার উদ্দেশ্যে সফরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, যা অন্যকোনো মসজিদ সম্পর্কে করেননি। এর গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী সা. বলেছেন, ঘরে নামাজ পড়লে এক গুণ, মসজিদে ২৫ গুণ, মসজিদে নববী ও আকসায় ৫০ হাজার গুণ, মসজিদুল হারামে এক লাখ গুণ সাওয়াব (ইবনে মাজাহ)। পবিত্র কুরআনুল কারীমেও আল্লাহ তায়ালা নানা প্রসঙ্গে বাইতুল মোকাদ্দাস তথা মসজিদে আকসার কথা উল্লেখ করেছেন। দুই একটি আয়াতে সরাসরি বাইতুল মোকাদ্দাসের নাম উল্লেখ করলেও অধিকাংশ আয়াতে ইঙ্গিত করে বলেছেন।

মসজিদুল আকসার কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা মহানবী সা. সম্পর্কে বলেন, পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। যার ৪ দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল। (সূরা বনী ইসরাইল আয়াত : ১) অপর আয়াতে মুসা আ. এর কথা উল্লেখ করে বলেন, (মুসা তার সম্প্রদায়কে বললেন) হে আমার সম্প্রদায় পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। (সুরা মায়েদা ৫:২১)

অপর এক আয়াতে বলেন, আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকেও আমি উত্তরাধিকার দান করেছি এ ভূখন্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে যাতে আমি বরকত সন্নিহিত রেখেছি এবং পরিপূর্ণ হয়ে গেছে তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ বনী-ইসরাঈলদের জন্য তাদের ধৈর্য্যধারণের কারণে। আর ধ্বংস করে দিয়েছে সেসব কিছু যা তৈরি করেছিল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় এবং ধ্বংস করেছি যা কিছু তারা সুউচ্চ নির্মাণ করেছিল। (সুরা আরাফ ৭:১৩৭)

জেরুজালেম শহরের দিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ বলেন, আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে সেই দেশে পৌঁছিয়ে দিলাম, যেখানে আমি বিশ্বের জন্যে কল্যাণ রেখেছি। (সূরা আম্বিয়া:৭১)

তাদের এবং যেসব জনপদের লোকদের প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলাম সেগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অনেক দৃশ্যমান জনপদ স্থাপন করেছিলাম এবং সেগুলোতে ভ্রমণ নির্ধারিত করেছিলাম। তোমরা এসব জনপদে রাত্রে ও দিনে নিরাপদে ভ্রমণ কর। (সূরা সাবা : ১৮) সম্পাদনা : মোহাম্মদ রকিব হোসেন