আল্লাহর কাছে আত্মহত্যাকারীর অবস্থান কোথায়

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম: আত্মহত্যা নিজকে নিজে ধ্বংস করা। নিজ হাতে নিজের জীবনের যাবতীয় কর্মকা-ের পরিসমাপ্তি ঘটানো। তুচ্ছপারিবারিক কলহ, বিদ্যালয়ের গমনাগন পথে বখাটেদের উৎপাত, ভালোবাসায় ব্যর্থতা ও প্রতারণা ইত্যাদিকে কেন্দ্রকরে তরুণীরা এবং স্বামীর নির্যাতন-অত্যাচার, যৌতুক সমস্যা, স্বামীর অর্থনৈতিক অক্ষমতা, পারিবারিক অশান্তি থেকে বাঁচার পথ হিসেবে আত্মহত্যাকে বেছে নিচ্ছে মানুষ। এসবই বড়ই ভুল, এসব সমস্যা সব দেশে, সব জাতিতে আছে। আত্মহত্যা এসবের কোনো সুষ্ঠু সমাধান বা সঠিক প্রতিকার নয়। বিশেষ করে ধর্ষিতাদের বেলায় বেশি ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ধর্ষিতা সামাজিকভাবে ভেঙ্গে পড়লে ও ইসলাম তাকে নির্যাতিতা বলে। নির্যাতনকারীর জন্য ইসলাম কঠিন শাস্তির ঘোষণা দেয়। তার তো কোনো দোষ নেই। সে আত্মহত্যা কোনো করবে। ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা হারাম। প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা আল-আনকাবূত-৫৭) তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান আর তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। (সূরা ইউনুস-৫৬) মানুষের মৃত্যু ঘটানোর কাজটি একমাত্র আল্লাহর। অতএব কেউ যদি কাজটি নিজের হাতে তুলেনেন, নিজের মৃত্যু ঘটান নিজের হাতে তবে তিনি অনধিকার চর্চাই করবেন। আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। আর তোমরা নিজেদেরহত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। যে কেউ জুলুম করে,অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্যই আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো,আল্লাহর পক্ষে তা সহজসাধ্য। (সূরা আন-নিসা-২৯,৩০)
আর তোমরা নিজ হাতে নিজদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না। {সূরা আল-বাকারা-১৯৫)

রাসুল সা. বলেন যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে। (বুখারী-৫৭০০, মুসলিম-১১০)
যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সেখানে সর্বদা সে ওই ভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে অনন্ত কাল ধরে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, সে তার বিষ তারহাতে থাকবে। জাহান্নামে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে বিষ খাইয়ে মারতেথাকবে অনন্তকাল ধরে। যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে তার কাছে জাহান্নামে সেধারালো অস্ত্র থাকবে যার দ্বারা সেসর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে। (সহীহ বুখারী-৫৪৪২,মুসলিম,১০৯)

যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগকরতে থাকবে। আর যে বর্শার আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে- দোজখেও সে সেভাবে নিজেকে শাস্তি দেবে। আর যেনিজেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে,কিয়ামতের দিন সে নিজেকে উপর থেকে নিক্ষেপকরে হত্যা করবে। (ইবন হিব্বান-৫৯৮৭,তাবরানী-৬২১)

আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। (বুখারী-৩২৭৬, মুসলিম-১১৩) তোমাদের কেউ যেন কোনো বিপদে পতিত হয়ে মৃত্যু কামনা না করে। মৃত্যু যদি তাকে প্রত্যাশা করতেই হয় তবে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ আমাকে সে অবধি জীবিত রাখুন, যতক্ষণ আমার জীবনটা হয় আমার জন্য কল্যাণকর। আর আমাকে তখনই মৃত্যু দিন যখন মৃত্যুই হয় আমার জন্য শ্রেয়। (বুখারী-৫৬৭১, মুসলিম-৬৯৯০)
রাসুল সা.এর সমীপে এক ব্যক্তিকে আনা হলো যে তরবারীর ফলা আত্মহত্যা করেছে, তাই তিনি তার জানাযা পড়লেন না। (মুসলিম-২৩০৯)