নববী আদর্শে মুসলিম উম্মাহর মুক্তি

হুসাইন মাহমুদ : চলছে রবিউল আউয়াল মাস। বলা হয় যে ১২ রবিউল আউয়াল রাসুল (সা.) এর জন্ম তারিখ, ‘বলা হয় এজন্য বললাম, যেহেতু ১২ রবিউল আউয়াল ই রাসূল ( সা.) এর জন্ম তারিখ এটা নিশ্চিত নয়। কেউ কেউ বলেন ৯ তারিখ। আবার কেউ ৮ তারিখ, তবে এটার মধ্য মুহাক্কিক  এবং ঐতিহাসিকগনের মত রয়ছে । ১২ রবিউল আউয়াল রাসূল (সা.) এর জন্ম তারিখ কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও এই তারিখটাই যে তাঁর মৃত্যুর তারিখ তা নিশ্চিত। যদি মেনে নেয়া হয়, ১২ তারিখ রাসূল ( সা.) এর জন্ম তারিখ,  তাহলে এখন প্রশ্ন দেখা দিবে আমরা ১২ রবিউল আউয়ালকে কোন হিসেবে মূল্যায়ন করবো। খুশির দিন হিসেবে  নাকি দুঃখের দিন হিসেবে গ্রহন করবো । এক হিসেব  সহজ! তা হলো  সাহাবায়ে কেরাম তাবীঈন তাবে তাবীঈনদের আমাল, অর্থাৎ আদর্শ যুগের আমাল, তাঁরা এই  দুইটার কোনটা গ্রহন করেছে? কোনটার উপর আমাল করেছে..? কোনোটাই না। নিঃসন্দেহে রাসুল সা.এর জন্ম আমাদের জন্য খুশির বিষয়। কিন্তু সেই খুশি ব্যক্ত করার তরীকা কি…? তার তরীকা হলো, রাসূল সা. এর আদর্শকে ভালোবাসা। রাসূল সা. এর আদর্শের উপর থাকতে আনন্দ বোধ করা। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন রাসুল ( সা.) এর আদর্শ ও  চরিত্র হলো কোরআন।  আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে ইরশাদ করেছেন ‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। (সুরা আহযাব,আয়াত :২১)

সীরাতুন্নবী এবং মিলাদুন্নবী’র পার্থক্য। সিরাতুন্নবী ও মিলাদুন্নবী এই দুটি বিষয় নিয়ে আমাদের বর্তমান সমাজে অনেক দ›দ্ব চলে। কেউ কেউ সীরাতুনন্নাবীর  পক্ষ্যে, আর কেউ কেউ মিলাদুন্নাবীর পক্ষ্যে, উভয় পক্ষ স্বস্ব যুক্তি দিয়ে থাকেন। কারো যুক্তি মজবুত আবার কারোটা মজবুত নয়। সীরাতুন্নবী সম্পর্কে বলি। সিরাতুন্নবীর সারমর্ম হচ্ছে রসুল সাঃ এর জীবন-আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা। আর মিলাদুন্নবী হচ্ছে রাসুল সাঃ এর জন্মদিন পালন করা। অর্থাৎ জন্ম উৎসব করা। কিন্তু তাঁর জীবনী নিয়ে আলোচনা (সীরাতুন্নবী) করলে  তার জীবনী জানা যাবে। এবং এবং তাঁর আদর্শ নিজের মধ্যে ফিট করে সোনার মানুষ হওয়া যাবে। কিন্তু কিছু ভাই আছেন যারা ১২ রবিউল আউয়ালে এক ধরনের আনন্দ মিছিল বের করেন। যার নাম দেয়া হয় “জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নাবী”এর অর্ত হলো নবীর জন্ম দিবস উপলক্ষ্যে বণার্ট্য মিছিল। নানান রঙ বে রঙের ব্যনার, ফেষ্টন ও পতাকা  নিয়ে অত্যান্ত আবেগের সাথে মিছিল বের করা হয়। আমরা তাদের আনন্দের অস্বিকার করিনা, কিন্তু এই আনন্দ প্রকাশ করার পদ্ধতি কোত্থেকে  এলো? কোরআন হাদিসে কি এই পদ্ধতি পাওয়া যায়? না। তাহলে শুনুন এই পদ্ধতি এলো কোত্থেকে ইংরেজ আমলে লাহরে হাজী এনায়েতুল্লাহ এবং মৌলভী মজিদ সাহেব হলেন এই মিছিলের আবিস্কারক। তারা এই মিছিলের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেন। বুঝার বিয়য় হলো, যে পদ্ধতিটা সাধারণ একটা মৌলভী আবিস্কার করেছে সেটার উপর আমাল করা ঠিক হবে? নাকি সাহাবায়ে কেরামের আমালের করা ঠিক হবে..? আর সাহাবায়ে কেরামেরর চেয়ে  রাসূল ( সা.) এর প্রতি ভালোবাসা আর কারো হতে পারে না। তাই আমরা সাহাবায়ে কেরামেরটাই আমল করবো। সুতরাং বাহ্যিক যুক্তি এবং কোরআন এর আয়াত এর দিকে তাকালে বুঝা যায় যে সিরাতুন্নবীর পক্ষ্যটাই আসল। স্বাভাবিক যুক্তিও বলে সীরাত কোরআন ও বলে সীরাত। আশাকরি খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে সীরাত ও মিলাদের পার্থক্য এবং আমাদের করণীয় (আমরা কোনটা মানবো) তা বুঝাতে পেরেছি। আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন।