ডিমের ডজন ৭০ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট : হঠাৎ করে মুরগির ডিমের দাম ডজনে ২০ টাকা কমেছে। এখন রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এ হিসাবে প্রতিটি ডিমের দাম ৬ টাকার কম। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ৯০ টাকা। বর্তমানে মহল্লার দোকানেও প্রতি হালি ডিম ২৫ থেকে ২৭ টাকা ও ডজন ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় মিলছে। ব্যবসায়ী ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এখন ডিমের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এত কম দামে ডিম বিক্রি হয়নি গত পাঁচ বছরে। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার পরে খামারে মজুদ থাকা ডিম একসঙ্গে বাজারে এসেছিল। তখন দাম কমলেও তা ২৬ থেকে ২৮ টাকা হালি ছিল। এবার ডিমের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। একই সময়ে সবজি ও মাছের সরবরাহ বেড়েছে। এতে বাজারে সবজি ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতারা ডিম কেনা কমিয়েছেন। ফলে ডিমের দাম কমে পাঁচ বছরের মধ্যে রেকর্ড গড়েছে।

রাজধানীর পাইকারি আড়তে ১০০ সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০০ ও লাল ডিম ৫৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ৬২০ থেকে ৬৭০ টাকার মধ্যে ছিল। তেজগাঁওয়ের পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, ৪ টাকা ৭০ পয়সা ডিম কিনে পরিবহন খরচ দিয়ে ৫ টাকা ২০ পয়সার কমে বিক্রি করলে লোকসান দিতে হবে। জানা যায়, খামারে দাম একই হারে কমে একশ’ ডিম ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটুয়াখালীর ক্ষুদ্র খামারি মো. জাকির হোসেন জানান, বাজারে ডিমের দাম কমে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে ১০০ ডিম ৪৫০ টাকায় বিক্রি করে লোকসান দিতে হচ্ছে। এভাবে দাম কমতে থাকলে খামার বন্ধ করার উপক্রম হবে। গাজীপুরের খামারি মনির হোসেন জানান, বর্তমানে একশ’ ডিম ৪৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। এই দামে একশ’ ডিম বিক্রিতে ৮০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদন করতে খরচ হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ টাকা। এক কেজি মুরগির মাংস উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। খামারিরা তা আকার ভেদে প্রতি কেজি ৯৩ থেকে ৯৭ টাকায় বিক্রি করছেন। এই ডিম ও মুরগি উৎপাদন করে এখন খরচ তুলতে পারছেন না তারা।

এদিকে রাজধানীর বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধিতে মাছ ও সবজির দাম কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামেও। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ডিসেম্বরে সবচেয়ে কম দামে ২৬ থেকে ২৮ টাকা হালিতে ডিম বিক্রি হয়েছে। এর পরের বছরে ছিল ২৮ থেকে ৩০ টাকা। ২০১৫ সালে তা আরও বেড়ে ৩২ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হয়। ২০১৬ সালে ছিল ৩০ থেকে ৩৪ টাকা। বর্তমান বাজার দরে প্রতি হালি ২৫ থেকে ২৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন ১৭ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান সমকালকে বলেন, বাজারে চাহিদার চেয়ে এখন সরবরাহ বৃদ্ধিতে ডিম, মুরগির বাচ্চা ও মুরগির দাম কমে গেছে। এতে লোকসানে পড়ছেন পোলট্রি ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, এ খাত নেতৃত্ববিহীন থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পোলট্রি খাতের উন্নয়ন ও বাজারে এই পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই। এ জন্য সঠিক নীতিমালা করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।সমকাল।