রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে ফের আলোচনা ১২ ডিসেম্বর

ডেস্ক রিপোর্ট : রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মানাবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলে আবারও আলোচনা হবে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফরি ফেল্টম্যান নিরাপত্তা পরিষদকে রাখাইন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে সর্বশেষ পরিস্থিতি অবহিত করবেন।

সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ৬ নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি প্রেসিডেনশিয়াল স্টেটমেন্ট ঘোষণা করে এবং একমাস পরে আবারও নিরাপত্তা পরিষদকে এ বিষয়ে অবহিত করার জন্য সেখানে বলা হয়।’

প্রসঙ্গত, এর আগে আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত চার বার নিরাপত্তা কাউন্সিল রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করেছে। এরমধ্যে একবার হয়েছে উন্মুক্ত আলোচনা, যেখানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য ২৩ নভেম্বর দু’দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে এবং ৫ ডিসেম্বর মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি শক্ত রেজ্যুলেশন গ্রহণ করা হয়। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জেফরি ফেল্টম্যান নিরাপত্তা পরিষদকে বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার পরে এর সদস্যরা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হবেন।’

সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম থেকেই চীন রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিকীকরণ না করার জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে চীনের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। চীন নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী সদস্য।তাদের বিরোধিতার কারণে নিরাপত্তা কাউন্সিল মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনও শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও চীনের বিরোধিতার কারণে ভোটাভুটি হয় এবং চীন মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দেয়।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) মানবাধিকার কাউন্সিলে চীনের দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং এ ধরনের রেজ্যুলেশন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল করবে। এ কারণে চীন ভোটের আহ্বান জানায় এবং আলোচনায় বিপক্ষে ভোট দেয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আপাত দৃষ্টিতে মিয়ানমারের প্রতি চীনের সমর্থন বাংলাদেশের থেকে বেশি। কিন্তু তারপরেও আমরা চীনের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ বাংলা ট্রিবিউন