বিমানবন্দরে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই
দ্বিতীয় দিনেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই পুলিশের

নুরুল আমিন হাসান : রাজধানী উত্তরার বিমানবন্দরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৪০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার দ্বিতীয় দিনেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন বিমানবব্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া।

তিনি বলেন, ৪০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত শেষ হলেই কে বা কারা এ ছিনতাই করেছে তা বেরিয়ে আসবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমাদের সময় ডটকমকে এসব তথ্য জানান তিনি। এর আগে বুধবার দুপুরে বিমানবন্দর থানাধীন উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়ক থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাজীপুরের টোকিও মুড নামক একটি তৈরী পোষাক কারখানার দুই কর্মচারীকে গাড়ীসহ নিয়ে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তারা হলেন টোকিও মুড কারখানার হিসাবরক্ষক সাঈদ মাহমুদ ও চালক রবি।

ওসি বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনা সত্য বলে প্রাথমিক তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ছিনতাইকারীদের সাথে অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও হাড়কড়া ছিল কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, যেহেতু ছিনতাইকারীকা ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। সেহেতু তাদের সাথে পিস্তল, ওয়াকিটকি ও হাতকড়া থাকাটাই স্বাভাবিক। আর ছিনতাইকারীরা সংখ্যায় ৩/৪ জন ছিল বলেও তিনি জানান।

এদিকে ওই পোষাক কারখানার ম্যানেজার রাসেল হাওলাদার আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত ঢাকা ব্যাংকের শাখা থেকে টাকা তুলেন হিসাবরক্ষক সাঈদ মাহমুদ ও চালক রবি। আর এসব টাকা বৃহস্পতিবার ওই কারখানার শ্রমিকদের ভেতন দেওয়া জন্য উঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে গাড়িতে করে টাকাগুলো ১৩ নম্বর সড়ক থেকে একই সেক্টরের ৫ নম্বর রোডের শাখা অফিসে টাকাগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে ১২ নম্বর সড়কে যানজটের কবলে দাড়িয়ে থাকে গাড়ীটি। এমতাবস্থায় পিছন দিক থেকে একটি গাড়ী থেকে ৪/৫ জন লোক এসে তারা ডিবি পুলিশ দাবি করে গাড়ীটি আটকায়। পরে গাড়ীর চালক রবিকে বলে, গাড়ীতে অবৈধ মালামাল আছে। এসময় তাদের সঙ্গে অস্ত্র, হ্যান্ডকাফ ও ওয়াকিটকি ছিল বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, পরে চালক রবি কথা হিসাবরক্ষক সাঈদের সাথে বলার জন্য গাড়ির গ্লাস নিচে নামায়। সেসময় জোর করে দরজা খুলে গাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে তারা। এরপর ড্রাইভার ও হিসাবরক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে হ্যান্ডকাফ পড়ায় ও চোখ বেঁধে ফেলে তারা। তারা পর তারা মামারধর করতে করতে গাড়িটি কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে নিয়ে যায়। সেখানে হিসাবরক্ষক ও ড্রাইভারকে ফেলে দিয়ে গাড়িতে থাকা ৪০ লাখ টাকা, গাড়ির চাবি ও কাগজপত্রসহ গাড়িতে থাকা দুই জনের মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় তারা।  তারপর তাদেরকে গাড়ী থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় এক টোকাই এ দৃশ্য দেখে দেখে ফেলায় ওই টোকাইকে দুটি লাথি মারে তারা। এরপর এক রিকশা চালক তাদেরকে দেখে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এরপর বিমানবব্দর থানায় এসে একটি মামলালা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর ৭।

ম্যানেজার রাসেল হাওলাদার আরও বলেন, পরিচয়ধারীদের একজনকে চেনা গেছে। ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সময় ব্যাংকের ভিতরে ছিল সে। পরে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইকারীদের দলেও ছিল।

অপরদিকে ঢাকা ব্যাংকের সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিমানব্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এজাজ শফি আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, এসব বিষয়ে আপনার জানার এখতিয়ার বহির্ভূত।