বাম দলের নেতাদের মন্তব্য
আ.লীগ ও বিএনপির ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতিকরণে গণতন্ত্র বক্স বন্দি

রফিক আহমেদ : সিপিবি, বাসদ, ঐক্য ন্যাপ ও ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতিকরণে গণতন্ত্র বক্স বন্দি হয়ে আছে। আজ গণতন্ত্রের গলায় গামচা লাগানো হয়েছে। যার ফলে আজও গণতন্ত্র বাস্তবায়ন হয়নি।

বৃহস্পতিবার উল্লেখিত দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি’র) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, ১৯৯০ সালে স্বৈর শাসক সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পতন হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর থেকে দেশে নতুন করে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতিকরণে গণতন্ত্র বক্স বন্দি হয়ে আছে। আজ গণতন্ত্রের গলায় গামচা লাগানো হয়েছে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস বলেন, স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা দখরকারী ছিলেন। তিনি দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর ১৫ দল, ৭ দল ও ৫ দল এ তিন জোটের রূপ রেখা অনুযায়ী একই সালের ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বৈর শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। যদিও তিনি ৪ ডিসেম্বর ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ঐক্য ন্যাপের আহবায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, বহু লোকের রক্তের বিনিময়ে এরশাদের শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেশের জনগণ দেখেছির। কিন্তু স্বৈরাচার এরশাদ কারো কারো সহযোগিতায় এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। আমাদের নৈতিক বিজয় হলেও আমরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ও গণতন্ত্রকে মজবুত করতে পারিনি। গণতান্ত্রিক সরকার ও স্বৈরাচারের মিলনে গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করেছি। যার ফলে গণতন্ত্রের ভিত্তি এখনো খুবই নাজুক। এ কারণে আমাদেরকে নূর হোসেন ও ডা. মিলনসহ অন্যান্য শহীদদের কাছে গিয়ে মাফ চাইতে হবে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেছেন, ১৯৯০ সালে স্বৈর শাসক সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন সময়ে প্রধান বিচারপতি সাহাব উদ্দিনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। এতে এরশাদের পতন হলেও আজও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।