লিবিয়ার শ্রমদাস থেকে ইতালির ফ্যাশন ডিজাইনার

প্রত্যাশা প্রমিতি সিদ্দিক: আফ্রিকার দরিদ্রতম দেশ বুরকিনা ফ্যাসোর ২৬ বছর বয়সী ব্যারিসো লিবিয়াতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ভাগ্যন্বেষণের আশায় ব্যারিসো ইতালিতে যান এবং ইতালির বিখ্যাত কারুশিল্পের চামড়ার ব্যাগ প্রস্তুতকরণের উপর একটি প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।
ব্যারিসোর মত প্রচুর তরুণ ইতোমধ্যেই একটি শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন ইতালির কারুশিল্পে। তবে এই প্রক্রিয়া একদিনেই শুরু হয়নি। শুরুটা হয় ২০১৫ সালে ব্যাসিরোর হাত দিয়ে। ১৫ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে এই তরুণ প্রথমে ছোট একটি দোকান খোলেন। নিজে থেকে কিছু করার প্রত্যয়েই শুরু হয় তার অগ্রযাত্রা। বর্তমানে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন কর্মী রয়েছে।

ব্যাসিরো লিবিয়ার শ্রমশক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘লিবিয়ার বাধ্যতামূলক শ্রম একধরণের দাসত্ব। আফ্রিকার সবাই ইউরোপের দিকে চলে আসতে চায়। উত্তর আফ্রিকার দাসত্ব বিষয়ক ছবিগুলোও কোনো নতুন বিষয় নয়। সেখানে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করা হয় এবং না করতে চাইলে জেলে পুড়ে দেয়।’

লিবিয়ার শ্রম দাসত্ব থেকে বের হয়ে এসে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণরা ব্যারিসোর পথ অনুসরণ করে ইতালিতে চামড়া ও কারুশিল্পের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তবে সকলের ভাগ্য সবসময় সহায় হচ্ছেনা। লিবিয়া থেকে ইতালিতে অভিবাসন করাই এখন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
লিবিয়ার শ্রমবাজার এবং বর্তমানে চামড়া শিল্প সম্পর্ক মন্তব্য করতে গিয়ে ‘লাই-মোমো’র (ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে চামড়া শিল্পের সমবায় প্রতিষ্ঠান) প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রেয়া মারচেসিনি রেগিয়ানি বলেন, ‘এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য একটি বড় উদ্যোগ। তাই এতে দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।’ আর এই দক্ষ শ্রমিকরা যুদ্ধ, খরা ও দুর্ভিক্ষ কবলিত আফ্রিকার দেশগুলোর। যারা জীবিকার তাগিদে লিবিয়ার শ্রমবাজারে যুক্ত হয়। সেখানে তাদের সাথে আচরণ করা হয় দাসের মত। সেখান থেকে পালিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আজ তারা ইউরোপের ফ্যাশন জগতে রাজত্ব করছে। সিটিজেন