বগুড়ায় জেএমবির বাবুল মাস্টার সহ গ্রেফতার-৪

আরএইচ রফিক,বগুড়া : বগুড়ায় জঙ্গী সংগঠন নব্য জেএমবি’র উত্তরাঞ্চলীয় ১ জেলার সামরিক প্রধান ও জেএমবির শুরা সদস্য বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাষ্টার ওরফে মাষ্টার(৪৫) সহ চার নব্য জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

বুধবার রাতে বগুড়া জেলা পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা এক যৌথ অভিযান চালিয়ে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে ১টি অত্যাধুনিক ৯এমএম বিদেশী পিস্তল, ৫টি ৯এমএম গুলি, ১টি ম্যাগাজিন, ১০টি পিস্তলের গুলি, ১টি চাপাতি এবং ৪টি বার্মিজ চাকু ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- দিনাজপুর বিরামপুর উপজেলার কসবা সাগরপুর জালেপাড়ার মৃত শফিকুল ইসলাম ওরফে শফু দজ্জিৃর ছেলে নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার সামরিক প্রধান ও শুরা সদস্য মো. বাবুল আক্তার (৪৫), নওগাঁর মান্দা উপজেলার পারইল আছির হাজীপাড়ার মৃত লোকমান আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি ওরফে মিজানুর রহমান (৩৯), সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলোইগাছার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে আরিফ (২৮) ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আড়াল গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে আফজাল হোসেন ওরফে লিমন (৩২)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলার পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং আয়োজনে পুলিশ সুপার মুহাঃ আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের হামলার সংঘটিত করার পরিকল্পনা করছিলো উত্তরাঞ্চলীয় নব্য জেএমবির সামরিক প্রধান বাবুল মাস্টার। তাদের পরিকল্পানা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতিকালে পুলিশের সফল অভিযানে ধরা পড়েন তিনি সহ ৪ জন। যে কারনে ভেস্তে যায় তাদের পরিকল্পনা।

বুধবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে তাদেরকে মোকামতলা জয়পুরহাট মহাসড়কের মোড় থেকে আটক করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছে থাকা উল্লেখিত অস্ত্র জব্দ করা হয় ।

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আরো জানান, বাবুল মাস্টার ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলমের পর নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আটক বাবুল ওরফে বাবুল মাষ্টার।

তিনি জানান ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রংপুর জেলার কাউনিয়া থানাধীন খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার অন্যতম চার্জশিটভূক্ত পলাতক আসামি সে।

তিনি আরো বলেন, বাবুল ২০০৩ সালে জেএমবিতে যোগ দেয়। ২০১৩ সাল পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলে দাওয়াতি কার্যক্রম চালায় । ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় সে।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের প্রথমদিকে উত্তরাঞ্চলের সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। চলতি বছরের মে মাসে নব্য জেএমবির শুরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পায় সে।

এদিকে জেএমবির শুরা সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি ওরফে মিজানুর রহমান বগুড়ার শেরপুরের গাড়ীদহ জোয়ানপুরের জঙ্গী আস্তানায় বিস্ফোরন এর ঘটনায় জেএমবি সদস্য নিহত হবার পর অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ পালিয়ে গিয়েছিল । ২০০৫ সালে বড় ভাই জেএমবি সদস্য ইউছুপ আলীর হাত ধরে জেএমবিতে প্রবেশ ।
২০১২সাল পর্যন্ত জেএমবির হয়ে রাজশাহী ,নওগাঁ, নাটোর চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় দাওয়াতি কার্যক্রম চালাতো সে। ২০১০সালে নতুন জঙ্গী সংগঠন জুনুদআত তাওহীদ আল খিলাফাহতে যোগদান করেন।

২০১৫তে ২৫ডিসেম্বর বাগমারা উপজেলার আমম্মদিয়া মসজিদে বাংলাদেশে প্রথম হামালার পরিকল্পনাকারী উক্ত হামলায় অভিযূক্ত আনোয়ার হোসেন নাঈম তার ছোট ভাই পরে ওই বছরে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়।

পুলিশ সুপার মুহাঃ আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়ে আরো নিশ্চিত করেন গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপার্দ করার মাধ্যমে কমপক্ষে ৭দিনে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে।