কুড়িগ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের আহাজারি

সৌরভ কুমার ঘোষ, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অবস্থানরত মানুষদের ঘরবাড়ি গাছপালাসহ সকল প্রকার স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি নোটিশ দেয়ায় বসবাসরত মানুষের মাঝে বসতবাড়ি হারানোর আহাজারি শুরু হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ওয়াবদা বাঁধে বসবাসরত ব্যক্তিবর্গ বাঁধের উপরিতল, স্লব কেঁটে ঘরবাড়ি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকীর মুখে পড়েছে। হুমকীর হাত হতে রক্ষার জন্য উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দপ্তর উলিপুর, কুড়িগ্রামের পক্ষ থেকে জন সাধারণকে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা এবং দোকানপাঠ সরিয়ে নেয়ার জন্য ১৫দিনের সময় দিয়ে নোটিশ প্রদাণ করা হয়েছে।

স্বাধীনতার পরপরই বাঁধ নির্মাণ হওয়ার পর থেকে উক্ত বাঁধে নদীভাঙ্গন কবলিত অসংখ্য মানুষ ঐ সময় অস্থায়ীভাবে বাঁধের ধারে বসবাস শুরু করলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে বসবাসরত মানুষেরা বাঁধে ৩০-৪০বছর ধরে স্থায়ীভাবে বসবাসের মত ভাবতে থাকেন।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পর এ ধরনের জরুরী নোটিশ পেয়ে বাঁধে বসবাসরত অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছে। অনেকেই তাদের জমি-জমা নদীভাঙ্গনের ফলে হারিয়ে ভিটামাটি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন।
সরকারপাড়া ফকিরেরহাট, চরেয়ারপাড় পশ্চিম সাইট এলাকার মমিনুল ইসলাম, আবুল হোসেন, অজিত শেখ, লিটন মিয়া, বিদ্যুৎমিয়া, আমিন মিয়া, ফুলু মিয়া, আব্দুস সালাম, বকুল, জায়দা বেওয়া কালাম মিয়া, আব্দুল মালেকসহ অনেকে জানান, অল্প সময়ের নোটিশে কোথায় যাবেন কোথায় থাকবেন, তারা কোন কুল কিনারা পাচ্ছেন না। তাদের দাবি স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করে তাদের ঘরবাড়ি স্থানান্তর করা হোক।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়াবদা বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ায় জনসাধারণকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। জনসাধারণের সমস্যা হলে বাঁধ ছাড়া ওয়াবদা’র জমি লিজ নিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা করতে পারেন।