আক্রান্ত ১১০, মৃত্যু ৬
নির্মূল হওয়া ডিপথেরিয়ার অস্তিত্ব রোহিঙ্গা শিবিরে

রিকু আমির : বাংলাদেশ থেকে নির্মূল হওয়া ডিপথেরিয়া রোগের অস্তিত্ব মিলেছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে। যার প্রভাবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে- ১০৮ জনের মধ্যে পাওয়া গেছে এর অস্তিত্ব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক একজন কর্মকর্তা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বাংলাদেশ কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বলছেন- এই সংখ্যা ১১০। মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম এ প্রতিবেদককে জানান, ৬৫ জন আক্রান্তের খবর।

তবে তিনটি সূত্রই বলছে- ল্যাব টেস্টের ভিত্তিতে নয়, উপসর্গের ভিত্তিতে আক্রান্তদের সনাক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম জানান, নিশ্চিত হতে কিছু নমুনা পাঠানো হয়েছে ঢাকার রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর) এ।

ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যধি ডিপথেরিয়া আক্রান্তের হাঁচি, কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্তের গলার পিছন দিকে সরু পর্দা তৈরি হয়। এতে শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, পক্ষাঘাত, এমনকি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। টিকা দানের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ করা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বেশ রাগ¦ত স্বরে এ প্রতিবেদককে বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের অর্জন বিসর্জনের আশঙ্কায়। তাদের শিশুরা এতোটাই অপুষ্ট যে, ডিপথেরিয়ায় আরো আক্রান্ত হতে পারে। এ থেকে আমাদের দেশের বাসিন্দারাও আক্রান্ত হবেন না- সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ইউনিসেফের পরামর্শক অধ্যপক ডা. বে-নজীর আহমেদ এ প্রতিবেদকের প্রশ্নে বলেন, আমাদের ঝুঁকি ততটা নেই। দেশের শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক ভাল অবস্থানে। তারপরও একটা আশঙ্কা তো থাকেই।

আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, তারা যদি আমাদের সংস্পর্শে আসেন, তাহলে ঝুঁকি অনেক বাড়বে। আক্রান্তদের খুব কাছাকাছি অবস্থান না করলে এতে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি খুবই কম বলে উল্লেখ করেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

তবে তিনি মনে করেন- খুব দ্রুত তাদের যথাযথ নিয়মে চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা, বাংলাদেশে চালু থাকা টিকা দান কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন আবদুস সালাম এ প্রতিবেদককে বলেন, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশ থেকে এ রোগ নির্মূল হওয়ায় এর চিকিৎসার ওষুধও নেই। কাজেই এর সঠিক চিকিৎসা প্রদান খুব চ্যালেঞ্জিং। তাছাড়া নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকরাও এ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞাত নন।