রোহিঙ্গা সংকটে বন্ধ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

হ্যাপী আক্তার: রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সকল বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সেবা বাণিজ্য কিছুটা চললেও পণ্য আমদানি-রফতানি প্রায় শূন্যের কোটায়। ব্যবসায়ীরা বলছে, প্রতিবেশী দেশটির বাজারে বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও কখনোই তাকে কাজে লাগায়নি সরকার। যার কারণে বর্তমানে মিয়ানমারের বাজার এখন চীন ও ভারতের দখলে। সূত্র: ডিবিসি নিউজ

মিয়ানমার গণমাধ্যমের জন্য একটি বিজ্ঞাপনও তৈরি করে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। দেশটির টিভি কমার্শিয়াল ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের অনেকখানি পূরণ করে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান।

মেডকম মিয়ানমার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল হক খন্দকার বলেন, মিয়ানমার তারা নিজেরাও কাজ করছে আর বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়েও কাজ করছেন। সেখানে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তবে এক ধরণের সন্দেহ থেকে যাচ্ছে, সেজন্য সতর্ক থাকছেন বলেন তিনি।

সেবাক্ষাতে তেমন কোনো প্রভাব না পড়লেও মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি রফতানি হচ্ছে না একেবারেই। রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান পণ্য রফতানি করতো। আর আমদানিও হতো মিয়ানমারের পণ্য।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি এস. এম. নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ছাড়া বাণিজ্য সম্ভব না। দুটি পয়েন্ট দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির হতো এখন দুটি পয়েন্টই শূণ্য প্রায় বলেন তিনি।

আগস্টের শেষ দিকে শুরু হয় রোহিঙ্গা সংকট, সে মাসে ৩০ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ থেকে। তবে সেপ্টেম্বরে নেমে আসে তার অর্ধেকেরও কম। রফতানি হয় মাত্র ১৩ লাখ ৮২ হাজার ডলার।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে গন্ডগোল হচ্ছে। ভারত ও চীন তাদের স্বার্থ আছে, কারণ ব্যবসার দিক দিয়ে বাংলাদেশের তুলনায় তাদের ব্যবসার অবস্থান বড়। মিয়ানমার ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাংলাদেশের সাথে সহজভাবে নেবে না বলে মনে করেন তিনি।

তবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সাথে চুক্তি হওয়ায় পণ্য ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবার আশা ব্যবসায়ীদের। এজন্য মিয়ানমারের বাজারে বিশাল সম্ভবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘ মেয়াদী নীতি গ্রহণের আহ্বান তাদের।