নিখোঁজের নামে নাটকের জন্য সত্যিকারের নিখোঁজগুলো গুরুত্বহীন

এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহী : বাসা থেকে এয়াারপোর্ট যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এমনটি দাবি করছেন তার পরিবার। এখন নিখোঁজের বিষয়টা এমন হয়ে গেছে যে, কেউ কেউ নিজেই আত্মগোপন করে, পরে তার পরিবারের লোকেরা বলে নিখোঁজ হয়েছেন। এমন ঘটনা আমরা আগে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখেছি। তারা আত্মগোপন করেছিলেন, পরে ফিরে এসেছেন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ফিরিয়ে এনেছে। মারুফ জামানাকে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে থাকে তাহলে তার পরিবারকে জানানো উচিত। হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়াটা সবার জন্যই আশঙ্কাজনক।

যিনি নিখোঁজ হন তার পরিবার টেনশনে থাকেন। তিনি আছে কি-না, নাকি মারা গেছে এটা তারা নিশ্চিত হতে না পারলে একটা ভীতির মধ্যে থাকেন। তবে আমাদের দেশে একটা বিষয় হচ্ছে, কিছু কিছু নিখোঁজের নামে নাটক যারা করেন, তাদের জন্য সত্যিকারের নিখোঁজের ঘটনাগুলোও গুরুত্বহীন হয়ে যায়। তাই যারা নিখোঁজের নামে নাটক করেন তাদেরকে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আবার যারা দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য বা পূর্ব শত্রুতামূলক কারণে গুম, হত্যা করে থাকে, তাদেরকে ধরে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে। তাহলে আমাদের দেশে এই ধরনের গুম, হত্যা বা গুমের নাটকগুলো কমবে।

এখন মারুফ জামানের ঘটনাটা বিস্তারিতভাবে বুঝা যাবে কিছু দিন পরে। ততদিন তাকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক নয়। ফরহাদ মজহার যখন নিখোঁজ হয়েছেন বলে দেশে খবর ছড়িয়ে পরে, তখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে যশোর থেকে উদ্ধার করে। তিনি নিজেই নিখোঁজের সাজানো নাটক সৃষ্টি করেন। তাই প্রকৃত ঘটনা জানা না পর্যন্ত কোনো ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়।

পরিচিতি : নিরাপত্তা বিশ্লেষক
মতামত গ্রহণ : গাজী খায়রুল আলম
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ