রাজনীতিতে নতুন জোট ‘পরগাছা’

অধ্যাপক শাহেদা ওবায়েদ : ক্ষমতার পাশে থেকে হালুয়া রুটির ভাগ পাওয়ার জন্যই রাজনীতিতে নতুন জোটের আবির্ভাব ঘটেছে। যারা এই নতুন জোট গঠন করেছেন তাদের নীতি, নৈতিকতা এবং আদর্শ বলতে কিছুই নেই। শুধুমাত্র নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য তারা এই জোট গঠন করেছেন। এরা যে কোনো মূল্যে, যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। এখন শেষ বয়সে এসে এক টুকরো ক্ষমতা এবং ভাগাভাগির রাজনীতিতে হালুয়া রুটির ভাগের আশায় এরা নতুন জোট নিয়ে রাজনীতিতে এসেছে।এই জোটগুলোকে আমি জোট বলি না, জট বলি। রাজনীতিতে জট পাকাতেই এই জোট তৈরি করা হয়েছে। আবার নাম দিয়েছে যুক্তফ্রন্ট। নামকরণের ক্ষেত্রেও এরা চালাকি করেছে। ইতিহাসের নকল করেছে। বহু বছর আগে ১৯৫৪ সালে একবার যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। সেই যুক্তফ্রন্ট আর এই যুক্তফ্রন্ট এক নয়।

দুই সময়ের দুই যুক্তফ্রন্টের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান আছে। তখন যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল বাঙালিদের বাচাঁনোর জন্য। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্য। আর এখন যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে নিজেদের পকেট ভরার জন্য। জোটের নামে নতুন এই জট মানুষের মধ্যে শুধুমাত্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। কেননা, এদের নিজেদের কোনো নীতি বা আদর্শ কিছূই নেই। এরা একেক সময় ককেক কথা বলে। যখন-তখন দল বদল করে। আজকে এক জনের পক্ষে কথা বলছে তো কালকে আবার আরেক জনের পক্ষে কথা বলছে। এদের নিজেদের কোনো নিজস্বতা নেই। যাদের নিজেদের কোনো নিজস্বতা নেই এরা মানুষকে কি দেবে? কিছুই দিতে পারবে না। এরা ভোটারদের জন্য বোঝা, জনগনের জন্য বোঝা। এরা জনগনের কাছ থেকে শুধুই নেওয়ার জন্য এই জোট গঠন করেছে। নানান সময়ে নানান পদের কথা বলে জনগনের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিল করাই হচ্ছে এদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

আবার দেখুন, এই জোটকে চার দলের জোট বলা হচ্ছে। আসলে কিন্তু তা নয়। এটা আসলে চারজন ব্যক্তির জোট। কেননা রাজনৈতিক দল বলতে যা বুঝায়, এই দলগুলো কিন্তু তা নয়। এদের দেশব্যাপি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নেই। তার সাথে দেশব্যাপি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ডও নেই। সেখান থেকেই বুঝা যায়, এটা আসলে দলের মোড়কে স্বার্থান্বেসী ব্যক্তিদের জোট।

পরিচিতি : শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক
মতামত গ্রহন : লিয়ন মীর
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ